Newsbazar24 Desk: : খেলাধুলার ময়দানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি চাকরি পেলেন শিলিগুড়ির ৯ জন ক্রীড়াবিদ। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের ৭৮ জন ক্রীড়াবিদকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সেই তালিকায় শিলিগুড়ির নয়জন খেলোয়াড়ের নাম থাকায় খুশির আবহ ক্রীড়ামহলে।
এই সাফল্যকে সম্মান জানাতে শনিবার শিলিগুড়ির পি ডব্লিউ ডি ইনস্পেকশন বাংলোতে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। সরকারি চাকরি পাওয়া ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানানো হয়।
ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি স্বরূপ এই সরকারি চাকরি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
শিলিগুড়ির নয ক্রীড়াবিদের এই সাফল্য ক্রীড়াঙ্গনে আগামী দিনে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি চাকরি পাওয়া শিলিগুড়ির ৯ জন খেলোয়াড় হলেন সালমা মাঝি, পলাশ পাল, মনোজ সরকার, জ্যোতি বিশ্বকর্মা, সঞ্জিৎ মহন্ত, অনুকূল সরকার, জাহিদা খাতুন, মাম্পি সরকার এবং সঞ্চারী ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের এই সাফল্য ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি পরিবারে নিয়ে এসেছে খুশির পরিবেশ। সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়ায় ভবিষ্যৎ আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করছেন ক্রীড়াবিদরা।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে চাকরি সুযোগ ফিরিয়ে এনেছেন। স্বাভাবিকভাবেই চাকরি পেয়ে খুশি জ্যোতি বিশ্বকর্মা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গল সাফারিতে ঘাস কাটার কাজ করছেন। পাশাপাশি খো খো খেলার সঙ্গেও বহু বছর ধরে যুক্ত রয়েছেন। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এতদিন সরকারি চাকরি পাননি। অবশেষে সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। অন্যদিকে, সঞ্চারী ঘোষ জানান, এই চাকরি তাঁর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিতে অনেকটাই সহায়তা করবে। সংসার চালানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব সামলাতেও এই চাকরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানান তিনি।
এদিন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, অনেক সময় খেলাধুলা ও সরকারি চাকরির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে গিয়ে খেলোয়াররা চাকরির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন এবং ধীরে ধীরে খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থেকেও যে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব, তার উদাহরণ এই খেলোয়াররা। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে উৎসাহিত করবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে আগামী দিনে আরও অনেকে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হবে।



