রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে চাকরি দেওয়ার নির্দেশিকা
ডিজিটাল ডেস্ক, নিউজ বাজার২৪: গড়বেতার জনসভা থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণা করার রেশ কাটতে না কাটতেই নবান্নের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশিকা জারি করা হলো। রাজনৈতিক হানাহানি বা হিংসার ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের অন্তত একজনকে গ্রুপ-ডি (Group-D) পদে নিয়োগ করা হবে। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলাশাসকদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব ও ২০০১ সাল থেকে কার্যকারিতা
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (DM) ওপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকেরাই রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলির সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২০০১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংঘটিত রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিকে এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, বাম জমানার শেষ ১১ বছর এবং পরবর্তী সময়কালকেও এর পরিধিতে আনা হয়েছে, যে সময়গুলিতে মূলত বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর নির্যাতন ও নিধনের অভিযোগ উঠেছিল।
আরও পড়ুন- বালুরঘাটের সাত কালী পুজোর ইতিহাস কত বছরের?
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচনোত্তর হিংসার প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন বিরোধী ও বর্তমান পদ্মশিবিরের নেতারা এই ধরনের প্রতিশ্রুতির কথা বারবার বলে আসছিলেন। অবশেষে সরকার গঠনের ছ’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই কথা রাখল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার গঠনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির যে ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন, ঠিক তেমনই দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম কোনো সরকার হিসেবে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার এমন বড় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল বর্তমান বিজেপি সরকার।



