বাম ভোট বিজেপির দিকে যাচ্ছে কেন?
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হচ্ছে। এবার বামফ্রন্টের ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা বিমান বসু। তাঁর দাবি, বামফ্রন্টের ভোটারদের একটি বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে বিজেপির দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের ঠিক আগে বিমান বসুর এই ‘ভোট ট্রান্সফার’ তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিমান বসুর মূল দাবি কী?
সম্প্রতি একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিমান বসু অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ শক্তি বামপন্থীদের সমর্থন ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান:
ভোট স্থানান্তর: বামেদের দীর্ঘদিনের কট্টর সমর্থকদের বিভ্রান্ত করে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিজেপির ফায়দা: বামেদের ভোট কমলে সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে বিজেপি, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
সতর্কবার্তা: নিচুতলার কর্মীদের প্রতি বিমান বসুর নির্দেশ, কেউ যাতে প্ররোচনায় পা দিয়ে ভোট বদল না করেন, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।
আরও বলুন- পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় কালীঘাটে অভিষেক, মায়ের আরতি করে চাইলেন বড় আশীর্বাদ
কেন এই দাবি তাৎপর্যপূর্ণ?
২০১১ সালের পর থেকে বাংলায় বামেদের ভোট শতাংশে বড়সড় ধস নেমেছে। ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, বামেদের একটি বিশাল অংশের ভোট সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। ২০২৬-এর আগে বিমান বসুর এই স্বীকারোক্তি বা সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বামেদের আশঙ্কা, যদি ফের ‘রাম-বাম’ মেরুকরণ হয়, তবে তাঁদের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই দাবিকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, মানুষ বামেদের নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে মোদী সরকারকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বাম এবং বিজেপি পর্দার আড়ালে একযোগে কাজ করছে শাসকদলকে বিপাকে ফেলতে।
বামেদের নতুন কৌশল:
বিমানের এই বক্তব্যের পর সিপিআই(এম) এবার আরও বেশি করে জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এবং শিল্পাঞ্চলে বাম সমর্থকদের ধরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে আলিমুদ্দিন। ‘ভোট ধরে রাখার’ এই লড়াই ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





