মালদা টাউন স্টেশনে কীভাবে ধরা পড়ল দুই বাংলাদেশি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদা: ফের সীমান্তে নিরাপত্তা এড়িয়ে এরাজ্যে তথা উত্তর বঙ্গে ঢুকে পড়ার অভিযোগ। মালদা টাউন স্টেশন চত্বর থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের মালদা টাউন জিআরপি থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, কাজের খোঁজে দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ধৃতদের শুক্রবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মালদা টাউন জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটে নাগাদ স্টেশন চত্বরে রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় টিকিট কাউন্টারের সামনে দুই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তাদের কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ হওয়ায় জিআরপি কর্মীরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
জিআরপি থানার আইসি প্রশান্ত রায় জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বললেও, পরে পুলিশি জেরার মুখে তারা স্বীকার করে যে তারা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। ভারতে প্রবেশের স্বপক্ষে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা তারা দেখাতে পারেনি। এরপরই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
ধৃতদের পরিচয়
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সফিকুল আলম (৩৮) এবং মহম্মদ সোনি (১৯)। সফিকুল বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং সোনি সেই দেশের জামালপুর জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে কোনো বৈধ নথি না মেলায় তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন বা ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-মালদায় জনসভা থেকে মমতার হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকা নিয়ে সরব তৃণমূল নেত্রী
অনুপ্রবেশের নেপথ্যে দালাল চক্র
প্রাথমিক জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, প্রায় দু’দিন আগে তারা মালদার কালিয়াচক বা বৈষ্ণবনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তাদের সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি ছিল। জনৈক এক দালালের মাধ্যমে তারা সীমান্ত পার হয়েছিল। কিন্তু মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছানোর পর ওই দালাল তাদের ছেড়ে কোথাও চলে যায়।
ধৃত যুবকদের মূল লক্ষ্য ছিল চেন্নাই পৌঁছানো। সেখানে শ্রমিকের কাজ পাওয়ার আশায় তারা এই ঝুঁকি নিয়েছিল বলে দাবি করেছে। তবে এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং সীমান্ত পেরিয়ে তারা কীভাবে স্টেশনে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ এখন দালালের ছবি আঁকিয়ে খোঁজার চেষ্টা করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ধৃতদের এই অনুপ্রবেশের পিছনে কোনো বড়সড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে মরিয়া তদন্তকারীরা। আইসি প্রশান্ত রায় জানিয়েছেন, ধৃতদের আজ শুক্রবার সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে ওই পলাতক দালাল এবং এই অনুপ্রবেশের মূল পান্ডাদের হদিশ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



