Share on whatsapp
Share on twitter
Share on facebook
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

ভারতীয় পণ্য বহিষ্কার : বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

news bazar24: 

সৌরভ হালদার 

বাংলাদেশের ব্যবসায় ও আমদানিতে বৃহৎ এক অংশ জুড়ে আছে ভারতীয় পন্য। এছাড়া কোন দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই সেই দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য অন্য দেশের সাহায্য নিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই দেশের পাশ্ববর্তী ও বন্ধু দেশের সাহায্য নেই।এখন বাংলাদেশের বিশাল এক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে ভারতীয় পন্য বয়কট করো। কিন্তু ভারতীয় পন্য বয়কট করার কারন কি ? কারনটা দীর্ঘ সময়ের ক্ষতের মতো চলতি বছরের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সেই সময় থেকে বাংলাদেশের এক সময়ের ক্ষমতাশীল দল বিএনপিসহ বিভিন্ন দল এই নির্বাচন বয়কট করেছে এবং তারা নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।তাদের দাবি, ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভোট দেননি।এই নির্বাচনকে ঘিরে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।আর তারপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভারত বিরোধী দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। তাদের দাবি, এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছিল ভারত। শেখ হাসিনা ভারতকে তাঁদের বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করেছেন।বাংলাদেশের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারত বয়কট করার কথা বলছেন এবং সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেওয়া নেতৃত্বে দেখা যায় তিনি ভারতীয় চাদর মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে বয়কট শুরু করেন এ দেখে বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ এই বয়কটের ডাকে সাড়া দিয়েছেন বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে এই ঝড় দেখা দিয়েছে।

ভারত আমাদের বন্ধু দেশ তারা বিভিন্ন ভাবে কূটনৈতিক, অর্থনীতি ও ব্যবসায় বানিজ্যে আমাদের সাহায্য করে থাকে।সে সব কথা বাদ দিলাম তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না।এই সব কথা বাদ দিয়েও যদি আমারা প্রশ্ন তুলি ভারতীয় সকল পন্য এবং সবকিছু বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিলে বাংলাদেশে অর্থনীতি ও মানুষের জীবন যাত্রায় কি প্রভাব ফেলবে?

যারা দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতি অবস্থা বিবেচনা না করে কেবল হুজুগে মাতাল এর মতো বয়কট বয়কট করে ঝড় তুলছে। আমাদের বয়কট করার আগে এটা ভাবা উচিত সেই দেশের সাহায্য ছাড়া কি আমরা আমাদের অর্থনীতি ব্যবসা কূটনীতি অবস্থা টিকিয়ে রাখতে পারব? আমাদের দেশের ও আমাদের জীবনযাত্রার উপর কি প্রভিব ফেলতে পারে? বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি ব্যাপক। পোশাক থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র, সবকিছুতেই ভারতীয় পণ্যের আধিপত্য। যদি এই সকল পণ্য বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশর অর্থনীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি: ভারতীয় পণ্য বহিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় অনেক কমে যাবে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে।মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি: ভারতীয় পণ্য বিকল্প পণ্যের তুলনায় অনেক কম দামি। ফলে এই পণ্যগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নিলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।কর্মসংস্থান হ্রাস: ভারতীয় পণ্যের উপর নির্ভরশীল অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে।এর বাইরে আমাদের জনজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে যেমন জীবনযাত্রার মান হ্রাস: ভারতীয় পণ্য বহিষ্কারের ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাবে। কারণ বিকল্প পণ্যগুলো অনেক বেশি দামি।পণ্যের অভাব: ভারতীয় পণ্য বহিষ্কারের ফলে বাজারে অনেক পণ্যের অভাব দেখা দিতে পারে।জনগণের মধ্যে অসন্তোষ: ভারতীয় পণ্য বহিষ্কারের ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যবসায়ে সকল পন্যের দাম চড়া হবে। কিন্তু এর সমাধান কোথায়?

আমরা কখন এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি? যখন দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ঘটবে ।ভারতীয় পণ্যের বিকল্প হিসেবে দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।যার ফলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি।দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব।জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি দেশীয় পণ্য ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু দেশীয় পন্য বাংলাদেশের মানুষ বহুল ভাবে ব্যবহার করতে নারাজ। কিন্তু কেনো? বেশিরভাগ মানুষ তাদের স্বল্প মতামতে জানাই তারা দেশীয় পন্য ব্যবহারে সন্তুষ্ট না। সর্বোপরি আমাদের দেশীয় পন্য মান উন্নয়ন ও জনসাধারণে ভোক্তা বাজারে ভোক্তাদের সন্তুষ্টি লাভে সক্ষম হয় এমন ভাবে পন্য তৈরি করতে হবে এতে করে বানিজ্যিক ভাবে দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন সহ অন্য দেশের পন্যের প্রতি চাহিদা কমিয়ে আমাদের দেশের পন্য ব্যবহারে উপযুক্ত হবে।ভারতীয় পণ্য বহিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল দিক বিবেচনা করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে জোর দেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থী সৌরভ হালদার অনার্স তৃতীয় বর্ষ ব্যবস্থাপনা বিভাগ 

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

Latest News

সম্পর্কিত খবর