দয়ে পোকার আক্রমণ কী ও কীভাবে ক্ষতি করে
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক, মালদা: গরম বাড়তেই আম ঝরে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। Malda-য় দয়ে পোকার আক্রমণে পরিস্থিতি আরও জটিল। চাষিরা বলছেন, হিটওয়েভে আমের বোঁটা শুকিয়ে যাচ্ছে।
ফলে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমের জেলা মালদায় এবার প্রকৃতির জোড়া মার। একদিকে যেমন তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভে শুকিয়ে যাচ্ছে আমের বোঁটা, অন্যদিকে তেমনই শুরু হয়েছে মারাত্মক ‘দয়ে পোকা’ (Mealybug) বা দুধিয়া পোকার আক্রমণ। গত কয়েক দিনের অসহনীয় গরমে জেলার বিঘার পর বিঘা আম বাগান এখন পোকার দখলে। ফলে আম বড় হওয়ার আগেই ঝরে পড়ছে সব, যা নিয়ে দিশেহারা জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
কীভাবে আক্রমণ করছে এই ঘাতক পোকা ?
জেলার কতুয়ালি, মিল্কি , পিরগঞ্জ এলাকার চাষিদের অভিযোগ, তীব্র গরম পড়তেই আম গাছগুলোর ডাল ও ফলে সাদা রঙের গুটি গুটি পোকার উপদ্রব বেড়েছে। এই পোকাগুলো মূলত আমের বোঁটা এবং কচি ফলের রস শুষে নেয়। রস শুকিয়ে যাওয়ার ফলে আম কালো হয়ে ঝরে পড়ছে। অনেক বাগান মালিকই জানাচ্ছেন, আমের মুকুল দেখে এবার বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে পোকার এই বাড়বাড়ন্ত সব স্বপ্ন চুরমার করে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন- দুর্গাপুজোয় কাজ নেই, ভোটেই বাজছে ঢাক—মালদায় ঢাকিদের রমরমা
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়
মালদা জেলা উদ্যানপালন ও বাগিচা দপ্তর সূত্রে খবর, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার প্রায় ৪ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করছেন আধিকারিকরা। অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে এবং পোকার উপদ্রব না কমলে আম উৎপাদনের গ্রাফ অনেকটাই নিচে নামতে পারে।
ঋণের বোঝায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা
ইংরেজবাজার, মানিকচক এবং রতুয়ার অনেক চাষিই মহাজনের কাছ থেকে বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করেছিলেন। মালদার এক বাগান মালিক রতন ঘোষ অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে জানান, “আগে মুকুল ভালো দেখেছিলাম, ভেবেছিলাম দু-পয়সার মুখ দেখব। কিন্তু যে হারে দয়ে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে, তাতে আম বাঁচিয়ে রাখা দায়। ওষুধ স্প্রে করেও লাভ হচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সরকারি উদ্যোগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা উদ্যানপালন দপ্তর থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আধিকারিকরা আম চাষিদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
কীটনাশক প্রয়োগ: সংবেদনশীল পোকা মারার জন্য উপযুক্ত কীটনাশক বা নিম তেল জল মিশিয়ে স্প্রে করার কথা বলা হয়েছে।
জলের ব্যবহার: বাগানে বিকেলের দিকে জল স্প্রে ও গাছের গোঁড়ায় জল দিলে গাছ কিছুটা ঠান্ডা থাকে এবং পোকার উপদ্রব কমে।
প্রশিক্ষণ: পরিস্থিতি বুঝে চাষিদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের কাছেও দ্রুত ত্রাণের বা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। আমের ফলন কমলে শুধু চাষিরা নন, এর প্রভাব পড়বে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটেও, কারণ বাজারে আমের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।



