নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক :ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ভোট দেওয়া যাবে না—এই প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল Supreme Court of India। সংবিধানের Article 142 প্রয়োগ করে আদালত জানিয়ে দিল, ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাই দেওয়া যাবে না ভোট—রাজ্যে চলা এই টানাপোড়েনের মাঝে বড়সড় মোড় ঘুরিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 142) প্রয়োগ করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনও যোগ্য ভোটার যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও নাম নথিভুক্ত করা যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মূল নির্যাস
সাধারণত ভোট ঘোষণার পর ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়া হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়মের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী:
২৩ এপ্রিলের ভোট: যদি কারও নামের নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিলের মধ্যে হয়ে যায়, তবে তিনি ২৩ তারিখ ভোট দিতে পারবেন।
২৯ এপ্রিলের ভোট: একইভাবে, ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলে সেই ভোটার ২৯ তারিখ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
অর্থাৎ, ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও যদি কারও আবেদনের ফয়সালা হয়, তবে তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুন-৪ মে ক্ষমতায় এলেই তালিকায় ফিরবে বাদ পড়াদের নাম,বাদুড়িয়া থেকে ঘোষণা অভিষেকের
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দেখা গিয়েছে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে।
প্রথম তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল।
বর্তমানে প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাদের নাম ফিরে পাওয়ার জন্য।
সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষের কাছাকাছি।
বাস্তব পরিস্থিতি ও ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা
আদালতের এই নির্দেশ অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও, সময়ের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, যার প্রধান হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা।
তথ্য বলছে, প্রতিটি ট্রাইব্যুনাল প্রতিদিন গড়ে ১০টি করে আবেদন যাচাই করছে।
সেই হিসেবে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি নামের নিষ্পত্তি করতে পারছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার ভোটের আগে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন। ফলে ৩৪ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত ২৩ বা ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এক কথায়
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ট্রাইব্যুনালগুলোর কাজের গতি এবং হাতে থাকা অল্প সময়ের মধ্যে কত লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় ফিরবে, এখন সেটাই দেখার।



