ভোট দেওয়া কি বাধ্যতামূলক? কী বলছে সংবিধান
ভোট না দিলে ভোটার কার্ড বাতিল হয়ে যাবে—এমন দাবি কি সত্যি?
Election Commission of India এবং সংবিধানের ৩২৬ ধারা এই বিষয়ে কী বলছে, তা নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি।জানুন আইনের চোখে আসল সত্য।
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক: নির্বাচনের মরসুম এলেই একদল অসাধু চক্র সোশ্যাল মিডিয়ায় একমাত্র তাদের চ্যানেলের রিচ বাড়ানোর জন্য, দাবানলের মতো একটি খবর ছড়িয়ে দেয়— ‘যারা ভোট দেবেন না, তাঁদের ভোটার কার্ড (Voter ID Card) চিরতরে বাতিল করা হবে। এমনকি অনেকে একে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় হিসেবেও দেখাচ্ছেন। গুগলে এই সংক্রান্ত সার্চের হিড়িক দেখে বোঝা যায় সাধারণ মানুষ কতটা বিভ্রান্ত। অনেকে এই ভয়তে দূর দুরান্ত থেকে গাদা গাদা টাকা খরচ করে ভোট দিতে চলে আসেন। কিন্তু ভারতীয় সংবিধান এবং নির্বাচন বিধি কি সত্যিই এমন কথা বলে? আসুন, আইনের ধারা অনুযায়ী এর সত্যতা যাচাই করি।
সংবিধান কী বলে? ভোট দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের ‘সাংবিধানিক অধিকার’ (Constitutional Right), এটি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
ধারা ৩২৬ (Article 326): এই ধারা অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের (যদি না তিনি অন্য কোনো কারণে অযোগ্য হন) নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
সংবিধানে কোথাও বলা হয়নি যে, এই অধিকার প্রয়োগ না করলে নাগরিকত্ব বা পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট তার বিভিন্ন রায়ে জানিয়েছে, ভোট দেওয়া যেমন নাগরিকের অধিকার, তেমনি ‘ভোট না দেওয়া’ বা NOTA (None of the Above) ব্যবহার করাও তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার (Freedom of Expression) অংশ।
আরও পড়ুন- ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও তোলা যাবে নাম! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আশার আলো
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ (Representation of the People Act, 1951)
ভোটার তালিকা তৈরি এবং নাম বাদ দেওয়ার নিয়মগুলো এই আইনের অধীনে পরিচালিত হয়।
এই আইনের কোনো ধারায় উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে।
নাম বাদ যাওয়ার কারণসমূহ: এই আইনের অধীনে নাম বাদ যায় কেবলমাত্র ভোটারের মৃত্যু হলে, স্থায়ীভাবে এলাকা পরিবর্তন করলে অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করলে।
কেন এই গুজবটি ভিত্তিহীন?
নির্বাচন কমিশন (ECI) বারবার স্পষ্ট করেছে যে, তারা নাগরিকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করে কিন্তু কাউকে বাধ্য করে না। ভাইরাল হওয়া খবর গুলিতে দাবি করা হচ্ছে যে সরকার ভোট না দিলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা কার্ড বাতিল করবে— এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো (Fake News)। কমিশন বরং ‘সুইপ’ (SVEEP) কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে, কোনো শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।
সচেতন নাগরিকের করণীয় কী ?
বিভ্রান্ত হবেন না: সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা বা হোয়াটসঅ্যাপে ঘোরা ফেরা করা ‘কার্ড বাতিল’ সংক্রান্ত মেসেজগুলো ফরোয়ার্ড করা থেকে বিরত থাকুন।
তথ্য যাচাই: যে কোনো খবরের সত্যতা জানতে নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল অ্যাপ ‘Voter Helpline’ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
অধিকার প্রয়োগ: কার্ড বাতিলের ভয়ে নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে যান। ভোট দেওয়া আপনার দায়িত্ব। কাউকে পছন্দ না হলে NOTA (None of the Above) ব্যবহার করুন।
এক কথায়
আপনার ভোটার কার্ডটি একটি স্থায়ী পরিচয়পত্র। এটি বাতিল হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংবিধান আপনাকে যে অধিকার দিয়েছে, তা আপনার কাছেই থাকবে। সুতরাং গুজবে কান না দিয়ে নির্ভয়ে গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল হন।



