সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: ভোট না দিলেও ভোটাধিকার থাকবে
নিউজ বাজার২৪: বিবেচনাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় সময়সীমা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত ঝুলে থাকা কেসের সমাধান হয়ে যাবে। আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৪৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লক্ষ করে কেসের কাজ চলছে।
ভোটাধিকার চিরতরে হারায় না
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত বা আইনি কারণে কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তবে তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে চলে গেল। নথিপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বা অ্যাপেলেট বডির মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থেকে যায়। ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বচ্ছতার স্বার্থেই নথির সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ট্রাইব্যুনাল ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ‘অ্যাপলেট ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে। এই প্রসঙ্গে আদালতের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণগুলি হলো:
কারণ দর্শানো: বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, সফটওয়্যারে প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কলাম থাকতে হবে। কেন কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বা কেন বাদ যাচ্ছে, তার কারণ স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।
নিরপেক্ষতা: ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আদালত কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি। তবে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বিচারকদের কাজে কোনো আধিকারিক হস্তক্ষেপ না করেন।
খরচ বহন: জুডিশিয়াল অফিসারদের সাম্মানিক এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচ কমিশনকেই বহন করতে হবে বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন– সুজাপুরে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে জল্পনা, ভোটার তালিকা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
ট্রাইব্যুনালের প্রশিক্ষণ ও কাজ
কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আদালতকে জানান, ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে এবং বৃহস্পতিবার থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে। যেখানে নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, সেখানে ট্রাইব্যুনাল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিপুল পরিমাণ ‘ফর্ম ৬’ জমা পড়া নিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সামগ্রিকভাবে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই জটিলতা কাটার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
এই প্রতিবেদনটি আপনার নিউজ পোর্টালের ‘জাতীয়’ বা ‘রাজনীতি’ বিভাগে প্রকাশ করতে পারেন। এছাড়া পাঠকদের আগ্রহ বজায় রাখতে এর সাথে সমসাময়িক প্রযুক্তি বা জীবনযাত্রার মতো ভিন্ন বিষয়ের খবরও যুক্ত করা যেতে পারে।





