কে এই বিক্রম সাউ ? ঝাড়গ্রামের সাধারণ বিক্রেতা থেকে ভাইরাল মুখ
ঝাড়গ্রামে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খেয়ে হঠাৎই শিরোনামে উঠে এলেন এক সাধারণ বিক্রেতা। Narendra Modi-র ‘মুড়ি-বিরতি’ মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—কে এই বিক্রম সাউ, যাঁর দোকানে থামলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? সাধারণ জীবন থেকে কীভাবে তিনি রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন, জানুন সেই গল্প।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাংলা এখন রাজনীতির কুরুক্ষেত্র। একের পর এক জনসভা আর হেভিওয়েটদের প্রচারে সরগরম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মত জঙ্গলমহলও। এরই মাঝে ঝাড়গ্রামের মাটিতে এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। কোনো বিলাসবহুল আয়োজন নয়, বরং জনসভা শেষে হেলিকপ্টারের দিকে যাওয়ার পথে রাস্তার ধারের এক সামান্য হকারের দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই মুড়ি মাখার ফাঁকেই শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপার ভাইরাল।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমের ‘স্বপ্নপূরণ’
ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ মোড় এলাকার পরিচিত ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ। প্রতিদিনের মতোই পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি। হঠাৎই প্রধানমন্ত্রীর কনভয় তাঁর দোকানের সামনে থমকে দাঁড়ায়। কালো কাঁচের গাড়ি থেকে নেমে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালেন, বিক্রমের তখন বিস্ময়ে কথা সরছে না। নরেন্দ্র মোদী সরাসরি হিন্দিতে তাঁকে বলেন, “ভাই, একটু ঝালমুড়ি খাওয়াও তো দেখি!”
তড়িঘড়ি মুড়ি মাখতে শুরু করেন বিক্রম। সেই সময় মোদী তাঁর কাছে জানতে চান দাম কত। সাউ বলেন ১০ ও ২০ টাকা, কিন্তু বিক্রম টাকা নিতে না চাইলেও প্রধানমন্ত্রী জোড় করেই পকেট থেকে ১০ টাকার একটি নোট বের করে তাঁর হাতে তুলে দেন।
আরও পড়ুন- রাজ্যের ৫০টি আসনে হিন্দিভাষীদের প্রভাব, এরাই কি হবে সরকার গঠনের ‘কিং মেকার’?
“সব খাই, শুধু মাথা খাই না!”
মুড়ি মাখার সময় বিক্রম যখন জিজ্ঞাসা করেন ঝাল বা পেঁয়াজ দেবেন কি না, তখনই প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একটি রসিকতা ছুড়ে দেন। তিনি হাসিমুখে বলেন, “হ্যাঁ ভাই, লঙ্কা-পেঁয়াজ সব দাও। আমি সবই খাই, শুধু কারোর মাথা খাই না (দিমাগ নেহি খাতে হ্যায়)!” প্রধানমন্ত্রীর এই সরস মন্তব্য শুনে সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই হেসে ওঠেন। হেসে ফেলেন বিক্রেতা বিক্রমও।
রাজনৈতিক তরজা ও তৃণমূলের তোপ
প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জনসংযোগ’ অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মোদী যখন ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন, তখন আকাশপথে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও কল্পনা সোরেনের হেলিকপ্টারকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, একজন আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রীর পথ আটকে প্রধানমন্ত্রী নিজের ‘ফটো-শুট’ করেছেন। পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দেখে তৃণমূল এখন আতঙ্কিত, তাই সাধারণ একটি ঘটনাকেও তারা রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে।
জঙ্গলমহলের ভোট সমীকরণ
২০২৬-এর নির্বাচনে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের জন্যই বড় ফ্যাক্টর। ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটি আদতে মোদীর একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই ছবি যে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিলক্ষণ বুঝছে সব পক্ষই।
বিক্রম সাউ অবশ্য রাজনীতির এই মারপ্যাঁচ বোঝেন না। তাঁর কাছে জীবনের সেরা পাওনা—দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে নিজের হাতের ঝালমুড়ি তুলে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই ১০ টাকার নোটটি তিনি সারাজীবন ফ্রেম করে রাখবেন বলে জানিয়েছেন। আর তার থেকেও বড় কথা, এই ঘটনার পর থেকেই বিক্রমের ঝাল মুড়ি বিক্রি বেড়ে গেছে। অনেকেই বলছে , বিক্রম কে এবার দিল্লিতে ঝালমুড়ি প্রধান মন্ত্রীর বাস ভবনে হোম ডেলিভারি করতে হবে ।



