কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭: কর সংস্কার, সস্তা ওষুধ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা
Union Budget 2026 Live Updates in Bangla
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ ভারতের অর্থনৈতিক নীতির দিশা নির্ধারণে কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget) বরাবরের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা অর্থনীতি, করব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ, রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা—এই চারটি বিষয়ই এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল। বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকার স্বল্পমেয়াদি সুবিধার বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার এবং নীতিগত স্থিতিশীলতার উপর জোর দিতে চায়।
৮ বছর পর ন্যায়বিচার, ২০১৭ সালের জোড়া খুনে নবি মুম্বইয়ের যুবকের যাবজ্জীবন
আয়কর ও করব্যবস্থা: সহজীকরণই মূল লক্ষ্য
বাজেট ২০২৬–২৭-এ আয়কর স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত থাকছে। তবে সরকারের লক্ষ্য করের হার কমানো নয়, বরং করব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করা।
নতুন আয়কর আইন
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, নতুন আয়কর আইন ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে—
জটিল ধারা ও উপধারার সংখ্যা কমানো হবে
সাধারণ করদাতাদের বোঝার সুবিধার্থে ভাষা সরল করা হবে
কর সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে
কর ফাঁকি ও জরিমানা ব্যবস্থা
কর ফাঁকির ক্ষেত্রে সরকার জেলের বদলে আর্থিক জরিমানার পথ বেছে নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় কর ফাঁকির প্রমাণ মিললে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য হতে পারে। সরকারের মতে, এতে একদিকে যেমন দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে, অন্যদিকে করদাতাদের মধ্যে ভয় নয়, বরং নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়বে।
আয়কর রিটার্ন ফাইলিংয়ে স্বস্তি
করদাতাদের জন্য আরেকটি বড় স্বস্তির ঘোষণা এসেছে আয়কর রিটার্ন (ITR) সংক্রান্ত নিয়মে।
৩১ মার্চ পর্যন্ত স্বল্প ফি দিয়ে রিটার্ন সংশোধনের সুযোগ থাকছে
ভুল বা বাদ পড়া তথ্য সহজে সংশোধন করা যাবে
এর ফলে সাধারণ চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য খাতে বড় বার্তা: সস্তা ওষুধ, বেশি স্বস্তি
বাজেট ২০২৬–২৭-এ স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী—
১৭টি ক্যানসার ও বিরল রোগের ওষুধের দাম কমানো হবে
প্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে
এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা ছিল, সেখানে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বহু পরিবার উপকৃত হবে।
নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি
নারী উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রেও বাজেটে ইতিবাচক বার্তা মিলেছে।
‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা করা হয়েছে
গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
সরকারের লক্ষ্য, নারীরা যেন শুধুমাত্র সহায়তা প্রাপক না হয়ে অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনই সামাজিক ক্ষমতায়নও জোরদার হবে।
বাজেটের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ২০২৬–২৭-এর মূল দর্শন কয়েকটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে—
✔ কর ব্যবস্থার সরলীকরণ ও আইনি স্বচ্ছতা
✔ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি
✔ নারী ও গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষমতায়ন
✔ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও নীতিগত স্থায়িত্ব
এই বাজেটকে শুধুমাত্র হিসেব-নিকেশের দলিল হিসেবে নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন যাত্রার একটি নীতিগত রূপরেখা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





