নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ নিউজিল্যান্ডের শান্ত, নিরিবিলি শহরগুলোতে সম্প্রতি এমন এক অদ্ভুত অথচ মজার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে, যা শুনে প্রথমে অবাক হতে হয়, পরে হাসি চাপা রাখা কঠিন। গভীর রাতে চুপিসারে বাড়ি বাড়ি ঢুকে মোজা, আন্ডারওয়্যার এমনকি দামি জামাকাপড় চুরি হচ্ছে—কিন্তু এই ‘চোর’ কোনও মানুষ নয়, বরং দুটি বিড়াল! একদিকে হ্যামিল্টন শহরের ব্রিজিট, অন্যদিকে অকল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী মাইরাঙ্গি বে এলাকার লিও—দু’জনেই এখন নিজেদের এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘ক্যাট বার্গলার’ নামে।
হ্যামিল্টন শহরের বাসিন্দা সারাহ ন্যাথানের ছয় বছরের টনকিনিজ জাতের বিড়াল ব্রিজিট গত দু’মাসে বাড়িতে এনে ফেলেছে অন্তত ১১ জোড়া আন্ডারওয়্যার ও ৫০টিরও বেশি মোজা। প্রথমে পরিবারের কেউই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ধোয়ার কাপড়ের স্তূপে বারবার অচেনা আন্ডারওয়্যার পাওয়া যেতেই রহস্য ঘনীভূত হয়। একদিন সারাহ নিজেই দেখেন, ব্রিজিট মুখে করে একটি মোজা নিয়ে দিব্যি বসার ঘরে ঢুকছে—একেবারে বিজয়ীর ভঙ্গিতে।
সারাহ জানান, আশপাশের কোনও বাড়ি থেকেই এই ‘সংগ্রহ’ আসছে, তা বুঝতে আর দেরি হয়নি। তাঁর অনুমান, কাছের কোনও ফ্ল্যাটে থাকা কয়েকজন পুরুষই সম্ভবত ব্রিজিটের প্রধান শিকার। ঘটনাটি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রায় ৫০০ বার শেয়ার হয়। পরে পরিবারের তরফে এলাকায় লিফলেট বিলি করা হয়, যাতে প্রকৃত মালিকরা নিজেদের জিনিস চিনে নিতে পারেন। সারাহ বলেন, “নিউজিল্যান্ডে সাধারণত বিড়াল ঘরে আটকে রাখা হয় না। ব্রিজিট পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকার করে না, তাই প্রতিবেশীরাও বিষয়টা হাসিমুখেই নিয়েছেন।”
দু’বছর আগে দিল্লি গেল প্রপোজাল, তবু অন্ধকারে ফাইল—কার গাফিলতিতে আটকে রানাঘাট–মালদা মেমু ?
একই সময়ে অকল্যান্ডের মাইরাঙ্গি বে এলাকায় আরও এক ‘চোর’ আলোচনায় উঠে এসেছে। ১৫ মাস বয়সি বিড়াল লিও তার চুরির দক্ষতার জন্য পেয়েছে অভিনব নাম—‘লিওনার্দো দা পিঞ্চি’। লিওর মালিক হেলেন নর্থের বাড়িতে যে সব জিনিস সে নিয়ে এসেছে, তার তালিকা শুনলে চমকে উঠতে হয়। সিল্কের বক্সার শর্টস, মোটা কাজের মোজা, শিশুদের জামা, এমনকি প্রায় ৩০০ নিউজিল্যান্ড ডলার দামের একেবারে নতুন কাশ্মীরি সোয়েটারও রয়েছে সেই তালিকায়।
একদিন লিও বাড়িতে নিয়ে আসে পাঁচ ফুট লম্বা একটি খেলনা সাপ। আরেকদিন সকালে দোকান খোলার আগেই সে এনে হাজির করে একটি জার্সি। এক রেকর্ড করা দিনে সে একসঙ্গে নয়টি জিনিস চুরি করে আনার কৃতিত্বও দেখিয়েছে। হেলেন প্রতিবেশীদের খুঁজে দিতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত ছবি পোস্ট করেন। তাঁর পরিচিত প্রশ্নটি এখন এলাকায় বেশ জনপ্রিয়—“এই আন্ডারওয়্যারগুলো কি আপনার?”
সবচেয়ে মজার বিষয়, এত কাণ্ডের পরও প্রতিবেশীদের মধ্যে কোনও ক্ষোভ নেই। বরং হাসি আর বিস্ময়েই ভরে উঠেছে গোটা এলাকা। কেউ কেউ তো মজা করে বলছেন, “লিও আমার জিনিস চুরি করল না কেন!” যদিও একজন প্রতিবেশী, যিনি বিড়ালে অ্যালার্জিক, তিনি এখন সাবধানে কাপড় ঘরের ভেতরই শুকোচ্ছেন।
শুধু বন্দে ভারত স্লিপার নয়, ভোটের আগে বালুরঘাট–রায়গঞ্জবাসীর জন্য বড় সুখবর রেলের
হেলেন লিওকে ঘরের ভেতর আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, এমনকি ইচ্ছা করে বাড়িতে কাপড় রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও কিছুই কাজে আসেনি। “ও শুধু সেই জিনিসই চায়, যেগুলো ওর নেওয়া উচিত নয়,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি। লিওর এই ‘অপরাধ জীবন’ শুরু হয়েছিল বছরখানেক আগে, যখন প্রথমবার তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবার আশা করছে, এটা কেবল সাময়িক দুষ্টুমি। আপাতত তবে লিওনার্দো দা পিঞ্চি পুরো পাড়া জুড়ে হাসির রোল তুলে দিয়ে এখনো ‘ধরা-ছোঁয়ার বাইরে’—একজন নিরীহ অথচ দুর্ধর্ষ চোর হিসেবেই রয়ে গেছে।





