নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। টানা প্রস্তুতি, টেনশন, আশা আর স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষার হলে বসতে চলেছে এবছরের পরীক্ষার্থীরা। তবে চলতি বছর এই পরীক্ষা এক বিশেষ কারণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হয়েছে সেমিস্টার পদ্ধতি। ফলে এবারকার পরীক্ষা শুধুমাত্র রুটিনমাফিক বার্ষিক পরীক্ষা নয়, বরং নতুন শিক্ষাব্যবস্থার প্রথম বড় বাস্তব প্রয়োগ।
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নতুন সেমিস্টার ব্যবস্থায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি সংসদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়ম রক্ষা—সব দিকেই বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের যাতে কোনও বিভ্রান্তি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
📅 পরীক্ষার সূচি ও সময়
১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রশ্নপত্রের কাঠামো এবং উত্তর লেখার নিয়মে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
নতুন সেমিস্টার, নতুন নিয়ম
এবার প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে পরীক্ষায়। সেমিস্টার পদ্ধতি চালুর ফলে পাঠ্যসূচি ভাগ হয়েছে ধাপে ধাপে, ফলে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও এসেছে পরিবর্তন। শিক্ষাবিদদের মতে, এতে ছাত্রছাত্রীদের উপর বার্ষিক পরীক্ষার চাপ কিছুটা কমবে, কারণ পুরো সিলেবাস একসঙ্গে না পড়ে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ মিলবে।
তবে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উত্তরপত্র ও প্রশ্নের ধরনে বদল হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের আরও সচেতন থাকতে হবে।
আরও পড়ুন- CBSE Admit Card 2026 প্রকাশিত, ১০ ও ১২-এর পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ঘোষণা
উত্তরপত্রে কড়াকড়ি
এবারের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো—অতিরিক্ত পাতা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট পাতার মধ্যেই উত্তর সম্পূর্ণ করতে হবে।
চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ২৪ পাতার উত্তরপত্র।
তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীরা পাবেন ১৬ পাতার উত্তরপত্র।
অতিরিক্ত পাতা না থাকায় উত্তর লেখার সময় পরিকল্পনা করে লিখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ উত্তর না লিখে নির্দিষ্ট ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দেওয়ার উপর জোর দিতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্টভাবে লেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
প্রশ্নপত্রেও পরিবর্তন
প্রশ্নের কাঠামোতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। বিশেষ করে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে বিকল্পের সংখ্যা। আগে যেখানে তিনটি প্রশ্নের মধ্যে যে কোনও দুটি লিখতে হত, এবার সেখানে থাকবে চারটি প্রশ্ন—যার মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যা বেছে উত্তর দিতে হবে।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতে, বিকল্প প্রশ্ন বাড়ানোর ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিজের প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রশ্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং পরীক্ষার ফলও ইতিবাচক হতে পারে।
পরীক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি
শুধু নিয়মের পরিবর্তন নয়, এবারের পরীক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নতুন শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও কৌতূহল ও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন—নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল কতটা প্রভাব ফেলবে? তবে শিক্ষামহলের একাংশের মত, পরিবর্তন সবসময়ই কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে আসে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
পরীক্ষার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
✔ সময় মেনে প্রশ্নপত্র ভালোভাবে পড়ে নিন।
✔ উত্তরপত্রের পাতা গুনে পরিকল্পনা করে লিখুন।
✔ অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত লেখা এড়িয়ে চলুন।
✔ আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন।
শেষ কথা
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুধু একটি শিক্ষাগত মূল্যায়ন নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক। কলেজে ভর্তি, পছন্দের বিষয় নির্বাচন—সবকিছুর ভিত্তি গড়ে দেয় এই ফলাফল। তাই নতুন নিয়ম, নতুন পদ্ধতি—সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে জরুরি হলো মানসিক স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস।
১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় রাজ্যের সমস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য রইল শুভেচ্ছা। নতুন সেমিস্টার ব্যবস্থার প্রথম পরীক্ষাই হোক তাদের সফল ভবিষ্যতের প্রথম সোপান।





