Newsbazar24 :
বেশি দূরে নয়,অদূরেই দু’তিন দিনের জন্য জঙ্গল-পাহাড়-নদীর দেশ ‘হতিবাড়ি’ বেড়ানোর আদর্শ জায়গা। যত দূর চোখ যায় শুধু শাল, পলাশ, সেগুনের সবুজ বনানী, আর সেই নির্জনতার মধ্যে মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এমন সব পর্যটনস্থল, যা দেখেলে প্রেমে না পড়াই কঠিন ভ্রমণপিপাসুদের। তেমনই একটি জায়গা দুয়ারসিনি।তবে ভ্রমণ কেন্দ্র হোক ‘হতিবাড়ি’। জায়গাটি একেবারে বাংলা ও ঝাড়খন্ডের সীমান্তে। সাতগুড়ুম নামের এক বন্য নদীর ধারে। ছোট ছোট পাহাড়ের মাঝে রয়েছে ছোট
ছোট কয়েকটি কটেজ। সেখানেই পাখ-পাখালি দেখতে দেখতে নিরিবিলিতে কাটিয়ে দেওয়া যায় সময়। আদিবাসী গ্রামও ঘুরে দেখতে পারেন। ভাগ্য ভাল থাকলে বনে নজরে পড়তে পারে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এই জঙ্গলে
বন্য শূকর, ভল্লুক, হরিণের, হাতির মতো বিভিন্ন জন্তু দেখতে পাওয়া যায়। কাছেই রয়েছে একটি হাতি চলাচলের পথ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডর’, যা ঝাড়গ্রাম থেকে দুমলা রেঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। জায়গাটির নাম হাতিবাড়ি। অনন্য সুন্দর প্রকৃতি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করবে। আপন মনে লাল রাস্তা ধরে ঘুরে বেড়ান শাল পলাশের বন ধরে। অদূরেই ‘ভালপাহার’। ভালপাহার পাহাড়ি ঝরনা আর বনভূমির অপূর্ব সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে। হাতে সময় থাকলে গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঘাটশিলা।
যাওয়া – ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে ঘাটশিলা যেতে হবে। হাওড়া-বারবিল জনশতাব্দী, ইস্পাত এক্সপ্রেস কিংবা লালমাটি এক্সপ্রেসের মতো একাধিক ট্রেন রয়েছে। হাওড়া থেকে ট্রেনে ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে। স্টেশন থেকে ছোট গাড়ি করে দুয়ারসিনি বা ‘হতিবাড়ি’ যাওয়া যায়। দূরত্ব ২০/২৫ কিলোমিটারের কিছু বেশি। আর সড়কপথে যেতে চাইলে, কলকাতা থেকে বান্দোয়ান, বান্দোয়ান থেকে ছোট গাড়ি বা ট্রেকারে দুয়ারসিনি হয়ে ‘হতিবাড়ি’। কেউ চাইলে ট্রেনে করে পুরুলিয়া স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বান্দোয়ান হয়েও পৌঁছে যেতে পারেন।
থাকা – হাতিবাড়িতে বেশ কয়েকটা হোটেল লজ গড়ে উঠেছে। আর দুয়ারসিনি থাকতে চাইলে বন্দপত্রের বাংলো। এখন সব on line booking হয়।
আর চিন্তা না করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ‘হতিবাড়ি’র পথে।



