২০২৬–এর প্রথম দিনে টাকির ইছামতির পাড়ে পর্যটকদের ঢল, আনন্দের মাঝেই বাংলাদেশি পর্যটকদের গলায় হতাশার সুর
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ২০২৬–এর প্রথম সকাল থেকেই মানুষের ভিড়ে জমজমাট বসিরহাট সাবডিভিশনের টাকি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই পর্যটন কেন্দ্র বরাবরই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণ। বছরের প্রথম দিনটিকে ঘিরে চড়ুইভাতি, ঘোরাঘুরি আর আনন্দে মেতে উঠতে শুরু করে সকাল থেকেই । পর্যটকদের ঢল নামে ইছামতি নদীর পাড়ে।
একদিকে ওপার বাংলার গ্রাম বাংলার দৃশ্য, অন্যদিকে শান্ত ইছামতির বুকে নৌকাবিহার—মিনি সুন্দরবনের ছোঁয়া, তার সঙ্গে টাকির রাজবাড়ি ও সীমান্ত ঘেঁষা প্রাচীন স্থাপত্য—সব মিলিয়ে এক জায়গাতেই যেন একাধিক পর্যটন অভিজ্ঞতা। তাই নতুন বছরের প্রথম দিনেই পরিবার–পরিজন, বন্ধু–বান্ধব নিয়ে ভ্রমণপিপাসু বাঙালির প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে টাকি শহর।
তবে আনন্দের এই ছবির মাঝেই ধরা পড়েছে এক অন্য অনুভূতি। টাকিতে আসা বহু বাংলাদেশি পর্যটকের গলায় শোনা গেল হতাশা ও আতঙ্কের সুর। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা লুকোননি তাঁরা। বাংলাদেশের সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক জলি দত্ত , কোয়েল বিশ্বাস এর কথায় “আগের মতো পরিস্থিতি আর নেই। ওদেশে দাদা–ভাই, বোন থাকেন, জন্মভিটে রয়েছে। কাজের সূত্রে ভারতে থাকতে হয়। কিন্তু ঐ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মনটা ভালো থাকে না।” বছরের প্রথম দিনেই সেই উদ্বেগের ছাপ চোখে পড়ল সীমান্তবর্তী এই পর্যটন কেন্দ্রেও।
তবুও বাঙালির স্বভাব তো বদলায় না। বাঙালি মানেই ভ্রমণ, বাঙালি মানেই ভোজনরসিক—এই চিরচেনা কথাই যেন সত্যি করে দেখাল টাকির প্রথম দিনের ছবি। কোথাও দেদার খাওয়াদাওয়া, কোথাও গান–নাচ, কোথাও আবার বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলে মুহূর্ত বন্দি করার ব্যস্ততা। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর মানুষের হাসিতে ভরে উঠল ইছামতির পাড় সহ রাজবাড়ির উঠোন।
আনন্দের হইহুল্লোড়ের মধ্যেও অনেকের মুখে সাধারন মানুষের একটাই আশা—শান্তি ফিরে আসুক, সীমান্তের দুই পারে মানুষ নিশ্চিন্তে বাঁচুক, আবার আগের মতো নির্ভয়ে যাতায়াত হোক। নতুন বছরের প্রথম দিনে টাকি যেন শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, হয়ে উঠল মানুষের অনুভূতি, আনন্দ আর উদ্বেগের মিলিত এক মানবিক প্রতিচ্ছবি।





