টি–২০ বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের, আইসিসি ও বিসিসিআই চাপে
শাস্তির আশঙ্কা? অতীতের নজির দেখিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে পাক বোর্ড
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই অস্বস্তিতে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
পাকিস্তান সরকারের তরফে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই বড় প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে—তাহলে কি কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে চলেছে Pakistan Cricket Board? ক্রিকেট মহলের অন্দরে গুঞ্জন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠকে বসেছে International Cricket Council। সূত্রের খবর, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
টি–২০ বিশ্বকাপের আগে ধোঁয়াশা, ফিটনেসে অনিশ্চিত তিলক বর্মা—শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিসিআই
যদিও এই জল্পনার মধ্যেও পাকিস্তান শিবির এখনও আশাবাদী। তাদের দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলেও কোনও শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই যুক্তির পেছনে তারা তুলে ধরছে অতীতের একাধিক নজির।
পাক ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন কর্তা তথা প্রাক্তন আইসিসি চেয়ারম্যান Ehsan Mani এই প্রসঙ্গে বলেন,
“যদি পাকিস্তান সরকারিভাবে নির্দেশ দেয় এবং সেই নির্দেশ মেনেই ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলা হয়, তাহলে কোনওরকম শাস্তি হওয়ার কথা নয়। কারণ অতীতেও এই ধরনের ঘটনায় আইসিসি কোনও দেশকে শাস্তি দেয়নি।”
এহসান মানির যুক্তি আরও স্পষ্ট—“এই একই যুক্তিতে গত বছর ICC Champions Trophy খেলতে পাকিস্তান ভারত সফরে যায়নি। তখনও আইসিসি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। অতীতে অন্য দলগুলিকে শাস্তি না দিয়ে আইসিসি কার্যত পাকিস্তানের জন্যও সেই রাস্তা খুলে রেখেছে।”
বাস্তবেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাচ বয়কট নতুন কোনও ঘটনা নয়। নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে অতীতেও একাধিক দেশ শেষ মুহূর্তে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে যায়নি।
এই বিতর্কের সূচনা হয়েছিল ১৯৯৬ বিশ্বকাপ থেকেই। ওই বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। সেই সময় তামিল বিদ্রোহীদের আন্দোলনে শ্রীলঙ্কা ছিল ভয়াবহ অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে। নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করে। তবুও ওই দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০০৩ বিশ্বকাপেও একই ছবি দেখা যায়। জিম্বাবোয়ের তৎকালীন স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের শাসনের প্রতিবাদে ইংল্যান্ড দল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যায়নি। একই বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে কেনিয়াতে দল পাঠাতে অস্বীকার করে নিউজিল্যান্ড। যদিও এর ফল হিসেবে নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সে যেতে পারেনি, কিন্তু পরবর্তীতে কোনও দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।
২০০৯ সালে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়নি জিম্বাবোয়ে। সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ম্যাচ বাতিল বা একতরফা পয়েন্ট বণ্টনের মাধ্যমেই বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বড় কোনও শাস্তির নজির তখনও তৈরি হয়নি।
এই সমস্ত উদাহরণ সামনে রেখেই এখন পাকিস্তান দাবি করছে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলেও আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। নিয়ম অনুযায়ী, সেই ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট পাওয়া ছাড়া অতিরিক্ত কোনও শাস্তি হবে না বলেই তাদের ধারণা।
তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে আইসিসি ভিন্ন পথে হাঁটতে পারে। বিশেষ করে Board of Control for Cricket in India এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিতে পারে বলেও জল্পনা।
সব মিলিয়ে, টি–২০ বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা জানতে এখন তাকিয়ে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে—এটি নিছক নিয়ম মেনে পয়েন্ট বণ্টনে শেষ হবে, নাকি তৈরি হবে নতুন কোনও দৃষ্টান্ত।





