সরকারি প্রকল্পের সোলার লাইট তৃণমূল কার্যালয়ে বসানোর অভিযোগ, উত্তাল মালদার ইংরেজবাজার
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ সরকারি অর্থে বরাদ্দ হওয়া সোলার লাইট তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের বাইরে বসানো হয়েছে—এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বাগবাড়ি ৫২ বিঘা এলাকায়। ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা সোচ্চার হয়ে থানায় ও জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গিয়েছে, আমার পাড়া আমার সমাধান প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকায় তিনটি সোলার লাইট বরাদ্দ হয়। ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতি সেই লাইটগুলি বসায়। অভিযোগ, তিনটির মধ্যে দুটি নির্ধারিত স্থানে বসানো হলেও একটি লাইট গ্রামের পাশের ফাঁকা জায়গায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-এর পার্টি অফিসের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে।
অভিযোগকারী বাপ্পা মন্ডল বলেন, পার্টি অফিসটি বেআইনি এবং দেবোত্তর সম্পত্তির মধ্যে তৈরি। “সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য যে সোলার লাইট বরাদ্দ হয়েছে, তা দলীয় কার্যালয়ে বসানো হয়েছে। তাই আমরা অভিযোগ করেছি,” জানান তিনি।
আরও পড়ুন- অবসরের পর বদলে গেল জীবন—পদ্মশ্রীর পথে রেলকর্মী অশোক হালদার
স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী মন্ডল ও বিউটি গোস্বামী বলেন, “যে প্রকল্প পাড়ার সমস্যার সমাধানের জন্য, সেই প্রকল্পের আলো পাড়ায় না বসিয়ে পার্টি অফিসে বসানো হচ্ছে—এটা আমরা মানি না। অবিলম্বে সঠিক জায়গায় লাইট বসানোর দাবি জানাই।”
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় অভিযোগ করেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়ন হয়েছে শুধু দলীয় নেতাদের। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
পাল্টা বক্তব্যে ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শম্পা সেন-এর স্বামী তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন দাবি করেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিজেপির উস্কানিতেই এমন প্রতিবাদ।
এদিকে মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, “সরকারি প্রকল্পে কাজ নির্দিষ্ট এলাকার নাম অনুযায়ীই হয়। কোথাও বেনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নজর প্রশাসনিক তদন্তের দিকেই। গ্রামবাসীদের দাবি—দলীয় কার্যালয় থেকে সোলার লাইট সরিয়ে প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী জনসাধারণের সুবিধার স্থানে বসানো হোক।





