Newsbazar24 :
ঠিক যেই মুহূর্তে বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে সেই দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের হাতে, ঠিক সেই সময় মুর্শিদাবাদে শুরু হলো মসজিদ ও মন্দিরের প্রতিযোগিতা। দিত দু’দিন আগেই ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন যে, তিনি মুর্শিদাবাদে একটা বাবরি মসজিদ তৈরী করবে। আর তার পরের দিনই বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হলো ওই মুর্শিদাবাদেই তারা তৈরী করতে চলেছে রাম মন্দির। বুধবার বহরমপুর বিজেপি কার্যালয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, জেলায় রামমন্দির তৈরি হবে। তার জন্য ট্রাস্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। জমিও দেখা হয়েছে। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রেই তৈরি হবে মন্দিরটি। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই মন্দির গড়া হবে। ২২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে ওই রাম মন্দিরের কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল।
এদিকে তার আগের দিনই বাবরি মসজিদ তৈরির কথা শোনা গিয়েছে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মুখে। বিধানসভায় সেকথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। হুমায়ুনের কথায়. “বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করব। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। আমার নিজের জমি বিক্রি করে ১ কোটি টাকা দেব।” তাঁর কথায়, গোটা মুর্শিদাবাদ এলাকার ৭৫ শতাংশ মানুষই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁদের ভাবাবেগকে স্বীকৃতি দিতেই এই মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্ত। একটি ট্রাস্ট তৈরি করে মসজিদের কাজ করবেন বলে জানালেন বিধায়ক। আমন্ত্রণ জানাবেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
একটা বিষয় এই মুহূর্তে খুবই স্পষ্ট ‘ভোট বড়ো বালাই।’ একদিকে একপক্ষ চাইছে মুসলিম ভোর সম্পূর্ণ নিজেদের দিকে আনতে আর আরেক পক্ষ হিন্দু ভোটের বড়ো অংশকে নিজেদের ভোট বাক্সে ব্যবহার করতে চাইছে। এর সঙ্গে ধর্মবোধের কতটা সম্পর্ক তা নিয়ে সন্দীগ্ধ নাগরিক মহল। কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে বাংলার গরিব মানুষের। যখন বাংলার কয়েক লক্ষ মানুষের দুবেলা আন্নের ব্যবস্থা নেই তখন ধর্মের আবেগে তাদের ডুবিয়ে দিতে ব্যস্ত রাজনীতিকরা। রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করলেই তৈরী হয় উগ্র ধর্মন্ধাতা – যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। তাই রাজ্যের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক মহল এই মসজিদ ও মন্দিরের প্রতিযোগিতায় সত্যি খুবই শঙ্কিত।





