নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় ধাক্কা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার Supreme Court of India স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না।
“এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ চলবে না”—কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচী এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়া-র বেঞ্চ এই মন্তব্য করে জানায়, প্রয়োজনে আদালত এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশ বা আদেশ জারি করবে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানির সময় এই পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। এই মামলাগুলির মধ্যেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং এতে বাধা দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন-PVC ভোটার কার্ডে পুরনো সাদা–কালো ছবি বদলাবেন কীভাবে? জানুন স্টেপ–বাই–স্টেপ
এসআইআর নোটিস পোড়ানোর অভিযোগ, ডিজিপির হলফনামা চাইল আদালত
শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট Election Commission of India-র জমা দেওয়া হলফনামার দিকেও নজর দেয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে কিছু দুষ্কৃতী এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস পুড়িয়ে দিয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি)-কে এ বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
“সংবিধান সব রাজ্যের জন্যই প্রযোজ্য”—কেন্দ্রের সাফ বার্তা
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, এসআইআর নোটিস পোড়ানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন,
“এই বার্তা স্পষ্টভাবে যেতে হবে যে, ভারতের সংবিধান সব রাজ্যের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।
আরও পড়ুন-ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের শীতের প্রভাব, জেলায় জেলায় নামল পারদ
ভোটার তালিকা সংশোধনে শেষ সিদ্ধান্ত কার?
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ভোটার তালিকা প্রস্তুতকারী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরাই। এই প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
পাশাপাশি আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া গ্রুপ-বি স্তরের ৮,৫০৫ জন আধিকারিকের তালিকা গ্রহণ করেছে। আদালতের মতে, এই আধিকারিকদের এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে তাঁদের নিয়োগ পদ্ধতি ও কাজের পরিধি নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনই।
তৃণমূলের আশঙ্কা, আদালতের অবস্থান স্পষ্ট
শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ এবং বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল,
“আমরা চাই না, ভোটার তালিকা থেকে অযথা বড় সংখ্যায় মানুষের নাম বাদ দেওয়া হোক।”
তবে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে স্পষ্ট, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া চলবে এবং তাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধা বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও শাসক দলের অবস্থান কার্যত চাপে পড়ল। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হল। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই রায় রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



