Newsbazar24:- ‘বৃহন্নলা’ এই শব্দ শুনলেই এখনো অনেকেই তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।কেবল মাথায় আসে অবহেলা, বৈষম্য।আধুনিক যুগে তারা সমাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু কোথাও যেন এখনো পর্যন্ত এই দৌড়ে পিছিয়ে রয়েছেন তারা।কিন্তু তারাও যে সমাজেরই একটা অঙ্গ এই বার্তা এবার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপ সজ্জায়।দুর্গাপূজার মণ্ডপের মধ্য দিয়ে সকলকে সচেতন করার প্রচেষ্ঠা নিয়েছে শিলিগুড়ি স্বস্তিকা যুবক সংঘ ক্লাব।এবার তাদের দুর্গাপূজার ৬৫তম বর্ষে তাদের থিম ‘দেবীপক্ষ’।এই থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বৃহন্নলাদের জীবনের কিছু অংশ।পূজার আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি রয়েছে।সেই কারণেই জোর প্রস্তুতি চলছে এই ক্লাবে।কয়েক বছর আগে পর্যন্তও বিগ বাজেটের তালিকায় নাম তুলতে পারে নি স্বস্তিকা যুবক সংঘ।তবে,বিগত কয়েক বছর ধরে নিজেদের প্রচেষ্ঠায় বেশ বড় আকারে পুজো করছে ওই ক্লাব।প্রতিবারই তাদের থিমের মধ্যে থাকে সমাজ সচেতনতার বার্তা।এমনকি গত বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই সেরা পুজোর পুরস্কার পেয়েছিল এই ক্লাব।এবছর ওই ধারা বজায় রেখে নতুন আঙ্গিকে মণ্ডপসজ্জা করছে পুজো কমিটি।মন্ডপের বাইরে থেকে ভেতর পর্যন্ত সবটাতে জীবনের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।মণ্ডপের বাইরে রয়েছে বড় বড় জানালা,পাশেই রয়েছে ঘুড়ি।জানালা ভেঙে খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নেওয়ার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।মন্ডপের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে’যদি দং হৃদয়ং মম,তদিদং হৃদয়ং তম’ বিয়ের এই মন্ত্র।একজন সাধারণ মানুষ এই মন্ত্রের মাধ্যমে তার জীবন সঙ্গিনীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় কিন্তু বৃহন্নলাদের জীবনে এই মন্ত্রের কোন গুরুত্ব নেই।বৈবাহিক সম্পর্কের যে মাধুর্য তারা তাদের জানা নেই।কিন্তু বর্তমান যুগের তারাও যে একই ভাবে নিজেদের জীবন যাপন করতে পারে সেই বার্তাকে এর মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।পরেই রয়েছে বড় খাঁচা।যেমন খাঁচার মধ্যে পাখি আবদ্ধ থাকে তেমনি কোথাও না কোথাও বৃহন্নলাদের জীবনও একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে।খাঁচা ভেঙ্গে পাখি উড়ে গেলে খোলা আকাশের এই পরিবেশ সেই মুক্ত বাতাসে উড়ে বেড়ানোর মুহুর্ত তুলে ধরতে রাখা হয়েছে লোহার তৈরি ওই খাঁচা।তারপর নানা রকম সাজসজ্জা রয়েছে।সবটাতেই একটাই বার্তা ‘তারাও সমান’।পুজো কমিটির সম্পাদক বাপ্পা পাল জানান,পুরো মণ্ডপ তৈরির কাজ করছে শিলিগুড়ির শিল্পীরাও।বাঁশ,কাঠ,কাপড়,ফোম,কাগজ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুরো মণ্ডপ।সবটাই শিলিগুড়ি থেকে নেওয়া।মূর্তিও তৈরি করছেন শিলিগুড়ির শিল্পী।থিমের উপর তৈরি করা হচ্ছে মূর্তি।বাজেট রাখা হয়েছে প্রায় ১৮লক্ষ টাকা।পুরো মণ্ডপের ভেতরে আলোকসজ্জা করা হবে।সেই শিল্পীও শহরেরই।তিনি বলেন,”করোনা পরিস্থিতিতেও মানুষকে উপহার দেওয়ার চেষ্ঠা করেছি।এবছর আরো ভালো করে পুজো হচ্ছে।আশা করছি আমরা যেই বার্তা তুলে ধরতে চাইছি তা আমরা তুলে ধরতে পারবো।আশা করি মানুষের ভিড় এবছরও হবে।
বুবাই দাসের রিপোর্ট,শিলিগুড়ি:


