Newsbazar24:সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতার যোগেশ চন্দ্র কলেজ এর মত শিলিগুড়ি কলেজেও পুলিশ প্রহরায় পূজা সম্পন্ন হল। এখানেও তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের দুই গোষ্ঠীর ঝগড়া কাজিয়ায় পুলিশকে পাহারা দিতে হল। স্বাভাবিক ভাবে এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শোরগোল। পুলিশের পাশাপাশি কলেজে আসেন জেলা তৃণমূল নেতারা এবং মেয়র গৌতম দেব।
প্রসঙ্গত কলকাতার যোগেশচন্দ্র কলেজের মত শিলিগুড়ির কলেজ ক্যাম্পাসেই চলে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ। এই কলেজের মাঠেই রবিবারই পূজা হয়েছে কমার্স কলেজে। এদিকে আজ পূজা ছিল শিলিগুড়ি কলেজের।
শিলিগুড়ি কলেজের ৭৫ বছর উপলক্ষে আজ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, একই সময়ে আজ কলেজের মাঠে ডিজে আয়োজন করেছে কমার্স কলেজ। পাশাপাশি শিলিগুড়ি কলেজের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর এই হুমকি দেওয়াতে অভিযুক্ত সৌরভ ভাস্কর নামে এক প্রাক্তনী। সৌরভ দার্জিলিং জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অন্যতম নেতা।
কলেজে গন্ডগোলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিলিগুড়ি কলেজে দেখা যায় জেলা তৃণমূলের বিভিন্ন নেতাকে। নিরাপত্তার খাতিরে কলেজের ভিতর এবং বাইরে মোতায়েন করা হয় পুলিশবাহিনী।
শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যাপক বিদ্যাবতী আগরওয়াল বলেন, ‘বরাবর শিলিগুড়ি কলেজে ডে কলেজ এবং কমার্স কলেজের দুটো পুজো হয়ে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে দুটো পুজোর আয়োজন হয়। এ বছর ডে কলেজের পুজো ৭৫তম বছরে পা দিয়েছে। সেই উপলক্ষে পুজোর স্থান পরিবর্তন করে মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকেই কমার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তথা তৃণমূল নেতা সৌরভ এবং ওঁর লোকজন ডে কলেজের পুজোয় বাধাদান করেছেন। তিনি আরও বলেন, ”দুই কলেজের কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। হঠাৎ সোমবার থেকে উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয় কমার্স কলেজের পুজোমণ্ডপে। এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে লাউডস্পিকার ঘুরিয়ে দেওয়া হয় ডে কলেজের পুজোপ্যান্ডেলের দিকে। আজ (সোমবার) ডে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কিছু অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানও বানচাল করতে চাইছেন সৌরভ।” শিলিগুড়ি ডে কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষ জানিয়েছেন, এ রকম কোনও অভিযোগ তাঁরা লিখিত আকারে পাননি। তিনি বলেন, কমার্স কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।
এই বিতর্কে ‘অভিযুক্ত’ নেতা জানিয়েছেন, ‘মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে আমার নামে। হুমকির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কে বা কারা এই সব অপপ্রচার করছে, বলতে পারব না।’ তৃণমূল যুব সভাপতি নির্ণয় রায় জানান, পুরো বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে এই ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকলে, তা ঠিক হয়নি। পুজোর সময়ে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের নেতা সুপ্রকাশ রায় কলেজে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, কলেজে এসেছি। কিন্তু কী হয়েছে, ঠিক জানি না। এ রকম কোনও খবর আমরা পাইনি।
কলকাতা ও শিলিগুড়ি পরপর দুটি ঘটনায় পুলিশ পাহারায় সরস্বতী পুজো হাওয়া কে কটাক্ষ করছেন নেটিজনেরা, “এ আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি যেখানে পুলিশ পহড়ায় সরস্বতী পুজো করতে হচ্ছে”





