নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : সমতলে যখন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে, ঠিক তখনই পাহাড়ে এখনো রয়ে গেছে শীতের আমেজ। এপ্রিল মাসেও বরফে ঢাকা মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে সিকিম এখন অন্যতম সেরা গন্তব্য। কম ভিড়, মনোরম আবহাওয়া এবং বরফের অপূর্ব সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে এই সময়টায় সিকিম ভ্রমণের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
পর্যটকদের মতে, এপ্রিল মাসে সিকিমে গেলে একদিকে যেমন তুষারাবৃত পাহাড় দেখা যায়, অন্যদিকে ফুলে ভরা উপত্যকার সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়। তাই যারা এই সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সিকিমের এই ১০টি জায়গা একেবারেই ‘মাস্ট ভিজিট’।
পকেটের মাপে পাহাড় ভ্রমণ:
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা করলে ৫ দিনের ট্যুর প্ল্যানে মাথাপিছু মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যেই সিকিমের মায়াবী রূপ দেখে আসা সম্ভব। শিলিগুড়ি, এনজেপি বা বাগডোগরা থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তার ধার ঘেঁষে পাহাড়ি পথে গ্যাংটক পৌঁছানোই হবে আপনার সফরের প্রথম ধাপ।
আরও পড়ুন-লাল বালির রহস্যময় সৈকত! ইরানের হরমুজ দ্বীপে এমন মাটি, যা খাবারেও ব্যবহার করেন মানুষ.
এপ্রিলের সিকিমে যা মিস করা চলবে না:
১. নাথুলা পাস
ভারত-চিন সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি সারা বছরই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এপ্রিল মাসেও এখানে বরফের উপস্থিতি দেখা যায়, যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
২. ছাঙ্গু লেক (চাঙ্গু/ত্সোমগো লেক)
উচ্চ পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই হ্রদটি অনেক সময় আংশিক জমে থাকে। বরফের মাঝে ইয়াক রাইড এবং ছবি তোলার জন্য এটি জনপ্রিয় স্থান।
৩. জুলুক
পুরনো সিল্ক রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম জুলুক। এর বিখ্যাত জিগ-জ্যাগ রাস্তা এবং পাহাড়ি দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। শীতের ছোঁয়া এখানে এপ্রিলেও অনুভব করা যায়।
৪. লাচুং
উত্তর সিকিমের এই ছোট্ট গ্রামটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। এখান থেকেই ইয়ুমথাং ভ্যালির পথে যাওয়া যায়।
৫. ইয়ুমথাং ভ্যালি
‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’ নামে পরিচিত এই উপত্যকায় বরফ ও ফুলের অপূর্ব মিশেল দেখা যায়। এপ্রিল মাসে এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য।
৬. গুরুদোংমার লেক
বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম হ্রদগুলির মধ্যে এটি একটি। অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে এবং এর নীল জল ও সাদা বরফের মিশ্রণ অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে।
৭. পেলিং
কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য পরিচিত এই স্থানটি পশ্চিম সিকিমের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখান থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণ।
৮. ইয়ুমেসামডং (জিরো পয়েন্ট)
এটি সিকিমের অন্যতম ঠান্ডা অঞ্চল, যেখানে এপ্রিলেও চারপাশ বরফে ঢাকা থাকে। প্রকৃত অর্থেই এটি ‘স্নো ল্যান্ড’।
৯. রাভাংলা
দক্ষিণ সিকিমের এই শান্ত শহরটি বুদ্ধ পার্ক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানো যায়।
১০. নামচি
ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নামচি তার বিশাল মূর্তি এবং পাহাড়ি দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয়। এখানেও মনোরম আবহাওয়া পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
কেন এপ্রিলেই সিকিম ভ্রমণ করবেন?
এপ্রিল মাসে সিকিমে ভ্রমণের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম ভিড় এবং আরামদায়ক আবহাওয়া। এই সময় বরফ ও বসন্ত—দুইয়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। পাশাপাশি ফটোগ্রাফির জন্যও এই সময়টি অত্যন্ত উপযুক্ত।
ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সিকিম ভ্রমণে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। উত্তর সিকিমের বেশ কিছু জায়গায় যেতে বিশেষ পারমিট প্রয়োজন হয়। এছাড়া আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই গরম জামা সঙ্গে রাখা উচিত। উচ্চতায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রস্তুতিও জরুরি।
কীভাবে করবেন বাজেট ট্রিপ?
যাত্রা: শিলিগুড়ি বা এনজেপি থেকে শেয়ারড ট্যাক্সিতে গ্যাংটক পৌঁছালে খরচ অনেকটাই কম হবে।
থাকা ও খাওয়া: গ্যাংটকের মূল ম্যালের আশেপাশে না থেকে একটু ভেতরের দিকে হোমস্টে বা বাজেট হোটেলে থাকলে অনেক সাশ্রয় হয়।
পারমিট: উত্তর সিকিম বা ছাঙ্গু লেকের জন্য স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে আগেভাগেই পারমিট করিয়ে নিন।
এক নজরে-
যারা গরম থেকে একটু মুক্তি পেতে চান এবং বরফে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এপ্রিল মাসে সিকিম ভ্রমণ একেবারেই সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা বছরের অন্য সময়ে সহজে পাওয়া যায় না।





