শুভেন্দুর কুণ্ডলীতে কোন গ্রহ প্রভাবশালী
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক , কলকাতা: ২০২৬-এর বঙ্গ রাজনীতির ভাগ্য এখন ইভিএম-মুক্তি। তবে রাজনীতির অলিগলিতে আলোচনার পাশাপাশি এখন চর্চা তুঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ভাগ্যফল নিয়ে। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা এবং নিউজ বাজারের – বিশেষ কুণ্ডলী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এবার এক বিশেষ ‘রাজযোগ’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরোধী দলনেতা থেকে কি এবার তিনি রাজ্যের মসনদে আসীন হবেন? তাঁর রাশিতে গ্রহদের অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার সম্পর্কে কী বলছে? তা নিয়ে দিনভর গবেষণা চলেছে , যার ফল নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
লগ্ন ও রাশির বিশেষত্ব: অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা
শুভেন্দু অধিকারীর কোষ্ঠী বিচারে দেখা যায়, তাঁর লগ্ন ও রাশির অধিপতি গ্রহগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে কর্কট লগ্ন এবং ধনু রাশির মেলবন্ধন তাঁকে একদিকে যেমন জনমানসের সাথে আবেগীয়ভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ধনু রাশির প্রভাব তাঁকে করে তোলে লক্ষ্যভেদী এবং নির্ভীক মানুষ। রাজনীতির ময়দানে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর যে ‘ফাইট ব্যাক’ করার মানসিকতা, তা মূলত বৃহস্পতি ও মঙ্গলের বিশেষ অবস্থানের ফল।
কুণ্ডলীতে ‘বিজয় যোগ’ ও শনির প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারীর কুণ্ডলী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর জন্মছকে শনি দেবের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। রাজনীতিতে সাফল্যের জন্য শনির কৃপা অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে তাঁর রাশিতে শনির মহাদশা বা অন্তর্দশা এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যা তাঁকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই করার ক্ষমতা জোগায়। জ্যোতিষীদের মতে, শনির এই অবস্থানই তাঁকে ‘গণ-আন্দোলনের নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং গত কয়েক বছরে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন- ২০২৬-এই কি শেষ? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
সূর্য ও মঙ্গলের প্রবল প্রভাব: প্রশাসনিক ক্ষমতার যোগ
শুভেন্দুর কুণ্ডলীতে সূর্য বর্তমানে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য হলো ক্ষমতার কারক গ্রহ। সূর্যের এই তুঙ্গী অবস্থান নির্দেশ করে যে, তিনি কেবল একজন জননেতা নন, বরং বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর ক্ষমতাও তাঁর ভাগ্যে রয়েছে। এর সাথে মঙ্গলের দাপুটে অবস্থান তাঁকে এমন এক ব্যক্তিত্ব দিয়েছে, যিনি চাপের মুখেও অবিচল থেকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ২০২৬-এর নির্বাচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে মঙ্গলের গোচর তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক বড়সড় মোড় নিয়ে আসতে পারে।
মঙ্গল ও রাহু: অদম্য সাহস ও আক্রমণাত্মক মেজাজ
শুভেন্দুর রাশিতে মঙ্গলের অবস্থান তাঁকে অত্যন্ত সাহসী এবং আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। রাজনীতির ময়দানে তিনি যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেন, তার মূলে রয়েছে মঙ্গলের এই বিশেষ প্রভাব। অন্যদিকে, রাহুর গোচর তাঁকে কৌশলী এবং চাণক্য বুদ্ধিতে সমৃদ্ধ করেছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে তাঁর এই রণকৌশলই তাঁকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বহু জ্যোতিষী।
‘রাজযোগ’ কি এবার পূর্ণতা পাবে?
প্রভাত খবর-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর কুণ্ডলীতে বর্তমানে ‘গজকেশরী যোগ’ এবং ‘আদিত্য মঙ্গল যোগ’-এর মতো কিছু বিরল রাজযোগের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মে ২০২৬-এর এই সময়ে বৃহস্পতির শুভ দৃষ্টি তাঁর ওপর বজায় রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, বৃহস্পতির এই অবস্থান মানুষকে উচ্চপদ এবং সম্মান প্রদান করে। ফলে রাজনৈতিক মহলে যে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হওয়ার জল্পনা চলছে, গ্রহের অবস্থান তার সঙ্গে অনেকটাই সঙ্গতিপূর্ণ।
সামনে কি কোনো বাধা রয়েছে?
তবে প্রতিটি মুদ্রার যেমন দুটি পিঠ থাকে, শুভেন্দুর কুণ্ডলীতেও রয়েছে কিছু প্রতিকূলতা। কেতুর অবস্থানের কারণে কাছের মানুষের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা বা গোপন শত্রুতার ভয় রয়েছে। গণনার দিন বা তার পরবর্তী সময়ে কিছু আকস্মিক বাধার সম্মুখীন হতে পারেন তিনি। তবে গ্রহের সার্বিক বিচারে তাঁর ‘বিজয় যোগ’ অন্য সব বাধার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
জ্যোতিষীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় হতে চলেছে। যদি তাঁর রাশিতে থাকা রাজযোগ পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করে, তবে বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার দৌড়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।
সতর্ক বার্তা:
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত কুণ্ডলী বিশ্লেষণ ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত বিশ্বাস ও জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক ফলাফল বা ভবিষ্যতের ঘটনার সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা নেই। পাঠকদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী তথ্যটি গ্রহণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। আমরা জ্যোতিষ শাস্ত্র কে বিশ্বাস করে এই প্রতিবেদন লিখেছি মাত্র ।





