‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্বে কী ইঙ্গিত দিলেন অমিত শাহ
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন প্রশ্ন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে—যদি বিজেপি এবার নবান্ন দখল করে, তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? রাজনৈতিক মহলের অলিন্দে এখন একটাই নাম সবথেকে বেশি আলোচিত হচ্ছে, আর তিনি হলেন শুভেন্দু অধিকারী। এককালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সেনাপতি থেকে বর্তমানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা শুভেন্দু কেন মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংকেতই বা কী বলছে? জানুন এই প্রতিবেদনের ৫টি বড় সমীকরণ।
হিন্দুত্ব ও সন্মিলিত সনাতনী ভোটব্যাঙ্ক
গত কয়েক বছরে শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের কট্টর হিন্দুত্ববাদী চেহারার সমার্থক করে তুলেছেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি যেভাবে বারবার সনাতন ধর্মের রক্ষা এবং তোষণ রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তাতে বিজেপির ক্যাডার ও কোর ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখন তুঙ্গে। বিজেপি হাইকম্যান্ডের কাছেও তাঁর এই লড়াকু ভাবমূর্তি একটি বড় তুরুপের তাস।
মমতার দূর্গে সরাসরি আঘাত
শুভেন্দু অধিকারীই একমাত্র নেতা যিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং ভাই-ভতিজাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপোষহীন আন্দোলন নিচুতলার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক জয় তাঁকে ইতিমধ্যেই ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুন- ২০ মে দেশজুড়ে ওষুধের দোকান বন্ধ! কেন ধর্মঘট, কী করবেন রোগীরা—জানুন জরুরি তথ্য
অমিত শাহের ‘ধরিত্রী পুত্র’ কার্ড
নির্বাচনী জনসভাগুলিতে অমিত শাহ বারবার একটি কথাই বলেছিলেন—বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার কোনো ‘ভূমিপুত্র’ (Dharti Putra)। শুভেন্দু অধিকারী মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসেবে নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যাতে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে জল ঢেলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কেমিস্ট্রি এবং এক মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি অনেক রাজনৈতিক বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সংগঠনের ওপর মজবুত দখল
শুভেন্দু কেবল একজন ঝোড়ো বক্তাই নন, বরং একজন অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। দলের মধ্যে দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতারা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক রণকৌশলই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় তাঁকে শীর্ষে রেখেছে।
বঙালিয়ানা ও হিন্দুত্বের মিশেল
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে যেমন হিন্দুত্বের প্রকাশ আছে, তেমনই তিনি নিজেকে ‘বাংলার ঘরের ছেলে’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি যেভাবে বঙালিয়ানা আর হিন্দুত্বের এক অভিনব মিশেল ঘটিয়েছেন, তা মমতার ‘বাংলার মেয়ে’ স্লোগানকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে। অমিত শাহের ইঙ্গিত এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





