নিউজ বাজার ডেস্ক ২৪ঃ রাতের অন্ধকারে বাজারের মধ্যে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় শান্তিপুরে। দোকানের শাটার ভেঙে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সোনা ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। অভিযোগে তিনি জানান, ড্রয়ারে রাখা প্রায় এক লক্ষ টাকা নগদও নিয়ে পালিয়েছে চোরের দল। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে শান্তিপুর থানার পুলিশ।
তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক অস্বাভাবিক তথ্য সামনে আসতে থাকে। দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করতে গেলে দোকান মালিক দাবি করেন, সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক চোরেরা নিয়ে পালিয়েছে। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর দোকান তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে দুটি গোপন ক্যামেরা, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় দোকান মালিকের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অবশেষে পুলিশের সন্দেহ আরও গাঢ় হলে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার গয়না, যা চুরির অভিযোগের সঙ্গে মিলছিল। এরপরই পরিষ্কার হয়ে যায়, বাইরের কেউ নয়—নিজের দোকানে নিজেই চুরির নাটক সাজিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী।
ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরতেই মৌসম নূরকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর নামে ব্যাঙ্কে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণ ছিল। সেই ঋণ শোধ করার উদ্দেশ্যেই দোকানে চুরির ভুয়ো অভিযোগ করে বিমার টাকা পাওয়ার ছক কষা হয়েছিল। দোকানটির প্রায় এক কোটি টাকার বিমা করা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমকেও ডেকে চুরির গল্প শোনানো হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের জেরার মুখে সমস্ত সত্য স্বীকার করেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। বর্তমানে দোকান মালিক ও তাঁর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গোটা ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বিমার টাকা পেতে কি এভাবেই সাজানো হচ্ছে চুরির নাটক? শান্তিপুরে এই ঘটনা নতুন নয় বলেই জানাচ্ছে পুলিশ।





