শনিদেবের প্রিয় ৫টি জিনিস কী কী?
জীবনে একের পর এক সমস্যা? জ্যোতিষ মতে শনিদেবের কুপ্রভাবই হতে পারে এর কারণ। তবে জানেন কি, মাত্র ৫টি জিনিস অর্পণ করলেই শনিদেবকে সন্তুষ্ট করা যায়? শনি জয়ন্তীতে এই সহজ উপায়গুলি মানলে মিলতে পারে শান্তি ও সাফল্য।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : হিন্দু ধর্মে শনিদেবকে ‘কর্মফল দাতা’ ও ‘ন্যায়পালক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশাখী অমাবস্যার পর জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই দিনেই সূর্যপুত্র শনি মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের শনি জয়ন্তী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে যাঁদের জীবনে শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়া চলছে, তাঁদের জন্য এই দিনটি আশীর্বাদ স্বরূপ। আজ Newsbazar24-এর বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব সেই ৫টি অত্যন্ত শুভ জিনিসের কথা, যা শনি জয়ন্তীতে অর্পণ করলে আপনার জীবনের সব বাধা ও দুঃখ দূর হতে পারে।
শনি জয়ন্তীর বিশেষ তাৎপর্য
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শনিদেব হলেন সূর্যদেব ও মায়াদেবী ছায়ার সন্তান। জন্মের পর থেকেই তিনি কৃচ্ছ্রসাধনা ও ন্যায়ের পথে চলেছেন। শনি জয়ন্তীর দিনটি কেবল পুজোর দিন নয়, এটি নিজের ভুল সংশোধনের দিন। শাস্ত্র মতে, এই দিনে নিষ্ঠাভরে শনিদেবের আরাধনা করলে গ্রহের অশুভ প্রভাব কমে এবং জীবনে স্থায়িত্ব আসে।
শনিদেবকে অর্পণ করুন এই ৫টি অত্যন্ত শুভ বস্তু
টিভি৯ বাংলার তথ্য ও শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী, শনি জয়ন্তীর দিন নিচে দেওয়া ৫টি জিনিস অর্পণ করা বাধ্যতামূলক:
১. সর্ষের তেল (Mustard Oil): শনিদেবের সবথেকে প্রিয় বস্তু হলো সর্ষের তেল। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ যখন শনিদেবকে বন্দি করেছিলেন, তখন হনুমানজি তাঁকে উদ্ধার করেন। সেই সময় শনিদেবের শরীরে প্রচণ্ড ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, যা সর্ষের তেল প্রয়োগে উপশম হয়। তাই এদিন শনিদেবের মূর্তিতে সর্ষের তেলের অভিষেক বা তৈলাভিষেক করলে দীর্ঘদিনের রোগ ও শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২. কালো তিল (Black Sesame Seeds): শনিদেবকে তুষ্ট করার অন্যতম প্রধান উপাচার হলো কালো তিল। পুজোর সময় তাঁর চরণে কালো তিল অর্পণ করা এবং দান করা—উভয়ই অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। এটি কুণ্ডলীতে থাকা শনি দোষের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
৩. নীল অপরাজিতা ফুল ও শমীবৃক্ষ (Shami Leaves): শনিদেবের প্রিয় রং নীল। তাই তাঁকে নীল অপরাজিতা ফুল দিয়ে সাজালে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হন। এর পাশাপাশি শমী পাতা বা শমীবৃক্ষের পুজো করা এই দিনে বিশেষভাবে জরুরি। মনে করা হয়, শমী পাতার প্রভাবে শনির ক্রোধ প্রশমিত হয়।
৪. কালো কাপড় বা কম্বল (Black Cloth): শনি জয়ন্তীতে কালো রঙের বস্ত্র বা কম্বল দান করা অত্যন্ত শুভ। বিশেষ করে যদি আপনি অশুভ শনি দশার মধ্যে দিয়ে যান, তবে অসহায় বা দরিদ্র মানুষকে কালো কম্বল দান করুন। শনিদেব দরিদ্রের সেবায় সবথেকে বেশি খুশি হন।
৫. লোহার পাত্র বা সামগ্রী (Iron Items): জ্যোতিষশাস্ত্রে লোহাকে শনিদেবের ধাতু বলা হয়। এদিন লোহার তৈরি দান সামগ্রী (যেমন কড়াই বা খুন্তি) দান করলে জীবনের আর্থিক অনটন দূর হয় এবং ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে।
আরও পরুন- শনি জয়ন্তী : শনিদেব কেন নিজের পিতার শত্রু হয়েছিলেন? জানুন জন্ম রহস্য ও মাহাত্ম্য
পুজোর সময় যা মনে রাখা জরুরি
শনিদেবের পুজো করার সময় কিছু সূক্ষ্ম বিষয় মাথায় রাখা উচিত:
চোখে চোখ রাখবেন না: শনিদেবের মূর্তির সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে পুজো করা উচিত নয়। তাঁর পায়ের দিকে তাকিয়ে ভক্তিভরে প্রার্থনা করা উচিত।
পরিচ্ছন্নতা: শনিদেব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা পছন্দ করেন। তাই পুজোর আগে বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।
হনুমান চালিশা পাঠ: শনিদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার সবথেকে সহজ উপায় হলো এদিন হনুমান চালিশা বা বজরং বাণ পাঠ করা। কারণ, শনিদেব কথা দিয়েছিলেন যে বজরংবলীর ভক্তদের তিনি কখনও অমঙ্গল করবেন না।
শনি জয়ন্তীতে সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা
শনিদেব কেবল শাস্তিদাতা নন, তিনি সঠিক পথের প্রদর্শক। এই জয়ন্তীতে আপনি যদি কাউকে অপমান না করেন, বিশেষ করে আপনার অধীনে কাজ করা শ্রমিকদের বা কোনো পশু-পাখিকে (যেমন কালো কুকুর বা কাক) খাবার দেন, তবে শনিদেবের আশীর্বাদ বর্ষিত হবে আপনার ওপর।



