কেন বারবার একই বুথ পায় ‘স্পর্শকাতর’ তকমা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব দোরগোড়ায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট দেবে বাংলার বড় একটি অংশ। কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি থেকে মালদা—উত্তরবঙ্গের সমতল আর পাহাড় মিলিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। তবে নির্বাচনের খবরের আড়ালে একটি শব্দ বারবার ঘুরেফিরে আসছে— ‘স্পর্শকাতর বুথ’। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবারের প্রথম দফায় বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্রকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে। কিন্তু কী এই স্পর্শকাতর বুথ? আর কেনই বা এখানে এত কড়াকড়ি?
স্পর্শকাতর বুথ আসলে কী?
সহজ কথায় বলতে গেলে, যে সমস্ত বুথে অতীতে হিংসার ইতিহাস রয়েছে, যেখানে ভোটারদের ভয় দেখানোর আশঙ্কা থাকে বা রাজনৈতিক দলাদলি চরমে, সেগুলোকে ‘স্পর্শকাতর’ বা ‘সংবেদনশীল’ (Sensitive/Vulnerable) বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তি আর নিরাপত্তার মেলবন্ধনে এই বুথগুলোতে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির ‘তৃতীয় নয়ন’: ড্রোন ও ওয়েব কাস্টিং
২০২৬-এর নির্বাচনে বড় চমক হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। এবার শুধুমাত্র সিসিটিভি নয়, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাতে নামানো হচ্ছে ড্রোন। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জটলা বা গণ্ডগোলের খবর পেতে আকাশের চোখ ব্যবহার করবে কমিশন।
১০০% ওয়েব কাস্টিং: প্রতিটি বুথের ভেতরে কী হচ্ছে, তা সরাসরি দিল্লি এবং কলকাতার কন্ট্রোল রুম থেকে দেখা যাবে। যদি কোনো বুথে ওয়েব কাস্টিং বন্ধ থাকে, তবে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের (Re-poll) কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।
মাইক্রো অবজারভার: স্পর্শকাতর বুথগুলোতে সাধারণ প্রিসাইডিং অফিসারের পাশাপাশি থাকছেন ‘মাইক্রো অবজারভার’। তাঁরা সরাসরি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষককে রিপোর্ট করবেন।
আরও পড়ুন-প্রথম দফায় ১৪৭৮ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ, জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গে মহাযুদ্ধ
নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছে গিয়েছে শত শত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)। কোচবিহারের সিতলকুচি, দিনহাটা কিংবা মালদার চাঁচল ও গাজোলের মতো এলাকাগুলোতে রুট মার্চ শুরু করেছে তারা। স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মোতায়েন থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
প্রথম দফায় নজরে কোন কোন জেলা?
কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার: ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে এই জেলার বুথগুলোর ওপর বাড়তি নজর থাকছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং: পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখতে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
মালদা: এই জেলার উত্তর প্রান্তের বিধানসভা আসনগুলোতে কড়া নজরদারি থাকবে।
কেন বারবার ‘স্পর্শকাতর’ তকমা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, একই বুথ কেন বারবার স্পর্শকাতর হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তবে কমিশনের লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তির এমন ব্যবহার নিশ্চিত করা যাতে আগামী দিনে ‘স্পর্শকাতর’ শব্দটাই নির্বাচনী অভিধান থেকে মুছে যায়।



