ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য রাশিয়ার বড় সুযোগ, এন্ট্রান্স ছাড়াই মিলবে সরকারি স্কলারশিপ
-নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিদেশে উচ্চশিক্ষা করতে চাওয়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় সুযোগ এনে দিল রাশিয়া। রুশ সরকার জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের কোনও প্রবেশিকা পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এই স্কলারশিপের আওতায় স্নাতক স্তর থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণমূলক কোর্সে পড়াশোনার সুযোগ মিলবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। নতুন এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেই পথ আরও সহজ হল বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
রুশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সরকারি স্কলারশিপ মূলত মেধা ও একাডেমিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনও লিখিত বা অনলাইন এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসতে হবে না। প্রার্থীদের আগের শিক্ষাগত ফলাফল, একাডেমিক রেকর্ড এবং পোর্টফোলিও যাচাই করেই নির্বাচন করা হবে। এতে সেই সমস্ত পড়ুয়ারাও সুযোগ পাবেন, যাঁরা ভাল ফল করলেও বিভিন্ন দেশের কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষার চাপে পিছিয়ে পড়েন।
সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনার কথা ভাবছেন? রয়েছে দুর্দান্ত কেরিয়ার গড়ার সুযোগ
এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, স্পেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোর্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রাশিয়ার চাহিদা বরাবরই বেশি। নতুন ঘোষণার ফলে সেই আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রুশ সরকারের দাবি, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি, গবেষণার সুযোগ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী রয়েছে, যা বিদেশি পড়ুয়াদের আকর্ষণ করছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বহু কোর্স ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়। ফলে রুশ ভাষা না জানলেও প্রথম থেকেই মূল পাঠ্যক্রম শুরু করা সম্ভব। তবে যাঁরা রুশ ভাষা শিখতে আগ্রহী অথবা যাঁদের কোর্সে রুশ ভাষার প্রয়োজন হবে, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পড়ুয়ারা চাইলে এক বছরের প্রিপারেটরি ভাষা কোর্স করতে পারবেন। এই কোর্সে শুধু ভাষা নয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাথমিক ধারণাও দেওয়া হয়, যাতে মূল কোর্স শুরু করলে পড়াশোনায় সমস্যা না হয়।
রুশ সরকার জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও মজবুত করাই মূল লক্ষ্য। রাশিয়ার মতে, ভারতের মতো দেশের মেধাবী পড়ুয়ারা রুশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা করলে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইতিমধ্যেই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের রাশিয়ার সরকারি শিক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে একটি প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্সের পছন্দ এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। জমা দিতে হবে আগের পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও মার্কশিট, পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং পোর্টফোলিও সংক্রান্ত নথি। পোর্টফোলিওতে গবেষণাপত্র, শিক্ষকের সুপারিশপত্র, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতা কিংবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের প্রমাণ থাকলে তা প্রার্থীর পক্ষে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে ধরা হবে।
পড়াশোনায় মন বসছে না? জেনে নিন মনোযোগী হওয়ার কিছু সহজ উপায়
এই গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপ চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই করা হবে এবং প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়ার বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচিত পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ করবে। এরপর ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইস্যু করা হবে, যাতে পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাশিয়ায় পৌঁছতে পারেন।
এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, কাজান, ভ্লাদিভোস্তক, ক্যালিনিনগ্রাদ-সহ রাশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্রে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এই শহরগুলিতে আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের জন্য পরিকাঠামো তুলনামূলকভাবে উন্নত এবং বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এক নজরে-
কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ?
এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন—
মেডিসিন (MBBS ও মেডিক্যাল স্পেশালাইজেশন)
ইঞ্জিনিয়ারিং
ফার্মেসি
স্পেস স্টাডিজ ও এয়ারোস্পেস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সামাজিক বিজ্ঞান ও মানববিদ্যা
সবচেয়ে ভালো খবর হল, অনেক কোর্সই ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়। ফলে রুশ ভাষা না জানলেও প্রথম থেকেই পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব।
রুশ ভাষা না জানলে কী হবে?
যাঁরা রুশ ভাষা জানেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা।
পড়ুয়ারা চাইলে এক বছরের প্রিপারেটরি (ভাষা) কোর্স করতে পারবেন।
এই কোর্সে রুশ ভাষার পাশাপাশি বেসিক সাবজেক্টও শেখানো হয়।
ভাষা কোর্স শেষ করার পর মূল ডিগ্রি কোর্স শুরু হবে।
অর্থাৎ ভাষা না জানার কারণে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (Eligibility)
ভারতীয় নাগরিক হতে হবে
আগের শিক্ষাগত স্তরে ভালো একাডেমিক রেকর্ড থাকতে হবে
সংশ্লিষ্ট কোর্সের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে
👉 কোনও প্রবেশিকা পরীক্ষা নেই—এটাই এই স্কলারশিপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
কীভাবে হবে নির্বাচন?
প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে মূলত—
আগের পরীক্ষার নম্বর
একাডেমিক পারফরম্যান্স
পোর্টফোলিওর ভিত্তিতে
পোর্টফোলিওতে যা থাকতে পারে—
গবেষণাপত্র (যদি থাকে)
শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র
জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বা অলিম্পিয়াডের সার্টিফিকেট
অন্যান্য একাডেমিক সাফল্যের নথি
আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে জেনে নিন
ধাপ ১: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে রাশিয়ার সরকারি শিক্ষা পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সেখানে নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
ধাপ ২: ডকুমেন্ট আপলোড
অনলাইনে আপলোড করতে হবে—
শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট
পাসপোর্ট
পোর্টফোলিও সংক্রান্ত নথি
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
ধাপ ৩: প্রাথমিক বাছাই
এই ধাপ চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট যাচাই এবং প্রাথমিক নির্বাচন করা হবে।
ধাপ ৪: বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ ও ভিসা
দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়ার বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক এবং অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মিলিতভাবে ছাত্রছাত্রীদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ করবে। এরপর ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইস্যু করা হবে।
কোন কোন শহরে পড়াশোনার সুযোগ?
এই স্কলারশিপের মাধ্যমে পড়ুয়ারা রাশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্রে পড়াশোনা করতে পারবেন, যেমন—
মস্কো
সেন্ট পিটার্সবার্গ
কাজান
ভ্লাদিভোস্তক
ক্যালিনিনগ্রাদ
- শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ট্রান্স পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য বড় স্বস্তি। খরচ তুলনামূলক কম হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।





