newsbazar24 : আদি ঐতিহ্যের ধারক রামনন্দী চৌধুরী এস্টেটের পারিবারিক শ্রী শ্রী আদি শ্যামা কালী মায়ের পূজো এ বছর পা দিচ্ছে ২৩০ তম বর্ষে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পূজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে প্রবল উৎসাহ ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।
বর্তমানে জমিদার পরিবারের সদস্যরা বর্ধমানের বৈদ্যপুর এলাকায় বসবাস করেন, কিন্তু পূজোর সময় তাঁরা সকলেই উপস্থিত থাকেন এই ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে।
স্বপ্নাদেশে মুসলিম মহিলার কালীপুজো, সম্প্রীতির নজির মালদহে
পুজোর মূল দায়িত্বে আছেন সেবায়েত অমন কুমার ঝা, যিনি বছরভর মন্দির ও পুজোর আয়োজনের দেখাশোনা করেন।
পূজোয় বংশপরম্পরাগত পুরোহিত পুজো সম্পন্ন করেন, আর প্রতিমা তৈরি করেন ঐতিহ্যবাহী শিল্পী উত্তম চৌধুরী।
উত্তমবাবুর বাবা সুবল চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রতিমা গড়তেন; তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সেই দায়িত্ব নিয়েছেন।
উত্তম চৌধুরী বলেন,
“আমি ১৪ বছর বয়স থেকে বাবার সঙ্গে প্রতিমা তৈরিতে হাত লাগিয়েছিলাম। পোস্ট অফিসে চাকরি করতাম, চাকরি শেষ করেও এখনো মায়ের প্রতিমা তৈরি করি। নিরামিষ আহার করে প্রতিমা গড়া শুরু করি লক্ষ্মীপুজোর পর শনিবার বা মঙ্গলবার থেকে। পুজোর দিন প্রতিমা রং করা হয়।”
গাজোল ভেতরবাজারের সেবায়েত অমন কুমার ঝা-র বাড়িতেই প্রতিমা তৈরির কাজ হয়। পুজোর দিন মাকে কাঁধে করে শোভাযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয় মন্দিরে।
পূজা শেষে একইভাবে প্রতিমা কাঁধে করে কালিদিঘী ঘাটে নিরঞ্জন দেওয়া হয় — যা এই পরিবারের প্রাচীন ঐতিহ্য।
মানিকোড়া ডাকাত কালীপুজো: মশালের আলোয় আজও অটুট প্রাচীন রীতি
পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন জমিদারবাড়ির এই আদি শ্যামা কালীপুজো দেখতে।
বংশানুক্রমে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও অক্ষুণ্ণ — প্রমাণ করে, ভক্তি ও সংস্কৃতির বন্ধন সময়ের সীমা মানে না।






