Newsbazar24:ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক পবিত্র দিন রামনবমী। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শ্রীরামচন্দ্র এই দিনে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই ভগবান শ্রীরামের জন্মদিনটি হিন্দুরা রামনবমী ব্রত হিসেবে পালন করেন। এই ব্রত চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে পালন করা হয়। বিষ্ণুর সপ্তম অবতার হলেন শ্রীরামচন্দ্র। ত্রেতা যুগে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও তাঁর প্রথম পত্নী কৌশল্যার গর্ভে শ্রীরামচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন বলে এই দিনটি ‘রামনবমী’ নামে পরিচিত।
অধর্মকে নাশ করে ধর্মকে স্থাপন করা, অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভশক্তি সূচনাই হল রামনবমীর মূল উদ্দেশ্য
প্রাচীন ভারতের হিন্দু ধর্মগ্রন্থনুযায়ী ভগবান বিষ্ণু হলেন বিশ্ব সংসারের পালক। বিভিন্ন যুগে তিনি নানা অবতার রূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন। বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে এবং মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে শিখিয়েছেন। ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থেও শ্রীরামের উল্লেখ রয়েছে।
রামনবমী হিন্দুধর্মের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। মন, প্রাণ ও দেহকে পবিত্র করার জন্য এই উৎসবটি পালন করা হয়। অশুভ শক্তির অপসারণ ও ঐশ্বরিক শক্তির আগমনের জন্য রামনবমী উৎসব পালন করা হয়। ভগবান রাম অত্যাচারী রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার জন্য পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শত্রুদের বিনাশ করে, অধর্মকে ধ্বংস করে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীরাম। তিনি তাঁর পিতার নির্দেশে রাজবাড়ির ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্য ত্যাগ করে বনবাসী হয়েছিলেন। পিতৃসত্য পালনের জন্য চোদ্দ বছর বনবাসে থেকে তিনি রাবণকে বধ করে অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। এই চোদ্দ বছর শ্রীরামের জীবনে নানা ঝড়, বাধা, বিপত্তির, ঘাত-প্রতিঘাত সহ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও তিনি নিজ লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। তাঁর রাজ্যে প্রজারা সুখে শান্তিতে বাস করত এবং সেই রাজ্যের সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার অব্যাহত ছিল। এই জন্য রামের শাসনের অনুসরণে সুশাসিত রাজ্যকে ‘রামরাজ্য’ বলা হয়। হিন্দুধর্মে রাম অন্তঃহীন প্রেম, সাহস, শান্তি, শক্তি, ভক্তি, কর্তব্য ও মূল্যবোধের দেবতা। তিনি শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মেরই নন। তিনি হলেন ভারতীয় ভূখণ্ডের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই ঐতিহ্যকে ভাগ করা সম্ভব নয়। রামের নাম ভারতে বসবাসকারী কোটি কোটি নাগরিককে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চেতনার মহান দূত হলেন ‘শ্রীরাম’।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘রামচন্দ্র হলেন আদর্শ পুত্র, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা সর্বোপরি আদর্শ নৃপতি’। তাই শ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিনটি ভারতবাসী তথা হিন্দুদের কাছে পবিত্র দিন, শপথ নেওয়ার দিন। ‘রামনবমী’ উৎসব হল মিলনের উৎসব, ভালোবাসার উৎসব, পবিত্রতার উৎসব, সত্য ও ধর্মস্থাপনের উৎসব।



