রাহুল অরুণোদয়ের অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক , কলকাতা: টলিউডে নক্ষত্রপতন। দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে আপামর বাঙালির মনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা ?
জানা গিয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি নতুন ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য দিঘার তালসারি সৈকতে গিয়েছিল গোটা টিম। রবিবাসরীয় সকালে অভিনেতা নীল, মধুমিতা চক্রবর্তী, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাহানা-সহ সিরিয়ালের বাকি কলাকুশলীরা শুটিং করছিলেন। বিকেলের দিকে রাহুলের একটি ‘নৌকা-বিহারের’ শট ছিল।
সূত্রের খবর, টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে নৌকা করে শট দিতে গিয়েছিলেন রাহুল। ঠিক সেই সময়েই আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে সমুদ্রের জলে পড়ে তলিয়ে যান তিনি। প্রায় ঘণ্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে টেকনিশিয়ানরা তড়িঘড়ি দিঘা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন-বাঙালি ভূত এবার জাতীয় মঞ্চে! ৫০ গল্প নিয়ে কী প্ল্যান সৌপ্তিকের?
সহ-অভিনেতাদের বয়ান
ধারাবাহিকে রাহুলের জেঠুর চরিত্রে অভিনয় করা প্রবীণ অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বিকেল তিনটে নাগাদ প্যাক আপ হয়ে যাওয়ার পর আমি শুটিং স্পট থেকে বেরিয়ে যাই। কিছুক্ষণ পরই খবর পাই রাহুল জলে ডুবে গিয়েছে। তার আধ ঘণ্টা পরেই ওর মৃত্যুর সংবাদ আসে।” ভাস্করবাবু আরও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো মদ্যপান বা নেশার কারণে এই ঘটনা ঘটেনি, এটি একটি নিছকই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা।
শোকস্তব্ধ পরিবার ও চলচ্চিত্র জগত
রাহুলের অকাল প্রয়াণের খবর কলকাতায় পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। একমাত্র পুত্র সহজকে নিয়ে তিনি কলকাতাতেই ছিলেন। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় পথচলা শুরু করেছিলেন রাহুল। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই তাঁর জুটি এক সময় ইতিহাস তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ছোটপর্দা এবং ওয়েব সিরিজেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এবং ওয়েব সিরিজ ‘ঠাকুমার ঝুলি’-তেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
শেষকৃত্য: প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, দিঘা হাসপাতালেই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এরপর তাঁর পার্থিব শরীর কলকাতায় নিয়ে আসা হতে পারে। মাত্র কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা যে এভাবে এক প্রতিভাবান অভিনেতার জীবন কেড়ে নেবে, তা মেনে নিতে পারছে না টলিউড।
রাহুলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন টলিউডের বিশিষ্ট পরিচালক ও অভিনেতা-সহকর্মী থেকে শুরু করে তাঁর অগণিত ভক্তরা। বাংলার চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।





