পাবলিক টয়লেটের দরজার নিচে ফাঁকা রাখার কারণ কী?
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : শপিং মল, সিনেমা হল কিংবা বড় কোনো অফিসের পাবলিক টয়লেটে গেলে একটি জিনিস প্রায় সবারই চোখে পড়ে— টয়লেটের দরজাগুলো মাটি পর্যন্ত ঠেকে থাকে না, নিচের দিকে অনেকটা ফাঁকা থাকে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন এই গোপনীয়তার অভাব? কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘গ্যাপ’ বা ফাঁকা অংশ রাখার পেছনে লুকিয়ে আছে ৫টি অবাক করা কারণ।
১. ঝটপট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
পাবলিক টয়লেটে সারা দিন প্রচুর মানুষের যাতায়াত থাকে। ফলে এগুলো দ্রুত নোংরা হয়। যদি দরজা মাটি পর্যন্ত ঠেকানো থাকতো, তবে সাফাই কর্মীদের প্রতিবার দরজা খুলে ভেতরে পরিষ্কার করতে হতো। নিচের দিকে ফাঁকা থাকায় দরজা না খুলেই নিচ দিয়ে ঝাড়ু বা মোছা দেওয়া যায়। এতে জল জমে থাকে না এবং দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন- কোন জায়গার নামের শেষে কেন থাকে ‘পুর’ ও ‘বাদ’? জানুন এই নামকরণের আসল ইতিহাস
২. জরুরি অবস্থায় জীবনরক্ষা
টয়লেটের ভেতরে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনো শিশু যদি ভেতর থেকে লক করে আটকে পড়ে, তবে এই নিচের ফাঁকা অংশটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। যদি কেউ ভেতরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান, তবে বাইরে থেকে এই গ্যাপ দিয়ে তা বোঝা সম্ভব। ছোটরা বা প্রয়োজনে বড়রাও নিচ দিয়ে গলে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন। এটি আপদকালীন পরিস্থিতিতে সাহায্য করার প্রধান একটি উপায়।
৩. অসামাজিক কাজ রোধে নজরদারি
পাবলিক টয়লেটে অনেকেই নেশা করা বা অন্য কোনো অনভিপ্রেত কাজে লিপ্ত হতে পারেন। দরজার নিচে ফাঁকা থাকলে বাইরে থেকে ভেতরের গতিবিধি বোঝা যায়। এতে গোপনীয়তা পুরোপুরি নষ্ট না করেও টয়লেটের অপব্যবহার রোধ করা সহজ হয়।
৪. উন্নত বায়ু চলাচল (Ventilation)
পাবলিক টয়লেটে প্রায়ই দুর্গন্ধের সমস্যা থাকে। যদি দরজাগুলো চারদিক দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ থাকতো, তবে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকতো না এবং দুর্গন্ধ আরও বাড়তো। নিচের এবং উপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বাতাস অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে, ফলে টয়লেটের পরিবেশ তুলনামূলক ফ্রেশ থাকে এবং শ্বাসরোধকর পরিস্থিতি তৈরি হয় না।
৫. সাশ্রয় এবং স্থায়িত্ব
মাটি পর্যন্ত পূর্ণ দৈর্ঘ্যের দরজা বানানো বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। তার ওপর টয়লেটে বারবার জল ব্যবহার হওয়ায় কাঠের বা মেটালের দরজার নিচের অংশ ভিজে দ্রুত নষ্ট বা জং ধরে যাওয়ার ভয় থাকে। ছোট দরজা বানালে খরচও কমে এবং স্থায়িত্বও বাড়ে।





