Newsbazar24:
মঙ্গলবার বেশি রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে গিয়ে পদত্যাগ পত্র দিয়ে আসেন পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায়। এই পর্যন্ত খুব বেশি বিতর্ক ছিল না। কিন্তু বিতর্ক তৈরী হলো পরে। কেন তাকে পদত্যাগ করতে বলা হলো? মন্ত্রী ফিরহাদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এখানে কোনও দুর্নীতির বিষয় নেই। মাঠ বা টিকিটের বিষয় নেই। তিনি লোক হিসেবে ভালো। দল ভাবছে পানিহাটি পুরসভা অন্য ভাবে চালাবে। তাই ওঁকে ইস্তফা দিকে বলা হয়েছে। ওঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তিনি ভালো মানুষ। দলের অন্য কাজ করবেন।’ মেয়র যাই বলুন না কেন, পানিহাটিতে কান পাতলে শোনা যায় অন্য গল্প।
উল্লেখ্য, মলয় রায়কে ফিরহাদের ইস্তফা দিতে বলার পর থেকেই কারণ নিয়ে একাধিক জল্পনা চলছিল। পানিহাটি এলাকার অমরাবতী মাঠ বেআইনি ভাবে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা ছিল, পানিহাটির ফুসফুস বলে পরিচিত প্রায় ৮৫ বিঘার ওই মাঠ কোনও প্রোমোটার গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। এই অভিযোগ ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। যদিও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। মুখ্যসচিব জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিলেন। জেলা প্রশাসনের দেওয়া রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন মনোজ পন্থ। খবরে প্রকাশ ওই সুবিশাল মাঠ তলে তলে বিক্রি করে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত মলয় রায়। যদিও মলয় রায় তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এই সমস্ত কিছুর মধ্যেই মলয় রায়কে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশে অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করেছিলেন। যদিও পরে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করে দিলেন, এই ইস্তফার নির্দেশের সঙ্গে ‘মাঠ’ বা ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত কোনও বিষয়ের কোনও যোগ নেই। আবার অনেকে এ কথাও বলছেন, মলয় রায়কে সামনে রেখে একটা বড়ো রাজনৈতিক চক্র ওই মাঠ বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। মলয় রায়কে বানানো হলো বলির পাঁঠা।





