Newsbazar24 :
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র মাঝে মাঝেই বেশ বিদ্রোহীদের মতো কথা বলেন। তিনি অবশ্য স্পষ্ট বক্তা বলেই দলে পরিচিত। এবার আবার বোমা ফাটালেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলেবরে বেড়েছে রাজ্যের শাসকদল। আর তার সঙ্গেই দলে ‘দালাল’-দের আনাগোনা বেড়েছে বলে মন্তব্য করলেন মদন। বিধায়ক বলেন, “বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস একসঙ্গে হয়ে গিয়েছে। তারপরও তারা বুঝতে পেরেছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। তখন তারা পরিকল্পনা করে তৃণমূলের মধ্যে কিছু দালাল ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা দলের নেতাদের তোষামোদ করছে। প্রশ্ন উঠবে, ওই দালালদের কি বুঝতে পারছে না তৃণমূল? আসলে ভেকধারী সন্ন্যাসীদের এত সহজে বোঝা যায় না।” তাঁর বক্তব্য, “আমাদের দলের যাঁরা পরিচিত মুখ, তাঁদের ছাব্বিশ পর্যন্ত সাবধান থাকতে হবে। আমার মতো কিছু নেতা আছেন, যাঁরা দালাল দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে যাচ্ছে।” হঠাৎ কেন মদন মিত্র এই সময় এই প্রসঙ্গ তুললেন? অনেকেই মনে করেন, সামনেই মুখ্যমন্ত্রী দলের নেতৃত্বের কিছু পরিবর্তন করবেন। সেদিকে খেয়াল রেখেই তাঁর এই মন্তব্য।
এর পরেই আরও সোজা সাপটা বলেন, “সরকারি অফিসারের থেকেও তৃণমূলের পদ পাওয়া এখন মূল্যবান। তৃণমূল কংগ্রেসের পদ পেতে সারা বাংলায় উঠেপড়ে লেগেছেন অনেকে। বিশেষ করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী। তাঁরা বলছেন, যা লাগে লাগুক, একটা পদ চাই। যাঁদের হাতে কাঁচা টাকা আছে, কালো টাকা আছে, যাঁরা খুব তাড়াতাড়ি রাজনৈতিক পরিচয় চাইছেন। তাঁরা বলছেন, জেলা কমিটির সেক্রেটারি করে দে, ১০ লক্ষ টাকা দেব। পঞ্চায়েত, জেলায় পদ পেতে টাকা দিচ্ছেন। অনেকেই আমায় এসে বলেন, আমি এই পদে রয়েছি, আমি ওই পদে রয়েছি। তাঁদের চিনিই না।” সবটা মিলিয়ে মদন মিত্র কিন্তু দলের অবস্থা অনেকটাকে খোলসা করে দিচ্ছেন।



