ঘটনার প্রেক্ষাপট: নোটিশ ছিল, উচ্ছেদ হল ভোটের পর
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , পান্ডুয়া: ভোটের উত্তাপ কমতে না কমতেই এবার বুলডোজারের গর্জন। বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হুগলির পান্ডুয়া। রেলপাড় এলাকায় রেল কর্তৃপক্ষের আচমকা উচ্ছেদ অভিযানে ভিটেমাটি হারালেন বহু মানুষ। চোখের নিমেষে গুঁড়িয়ে গেল ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে রুটিরুজির সম্বল দোকানপাটও। ভিটে হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নারী-শিশু থেকে বৃদ্ধরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: নোটিশ বনাম বাস্তবতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্ছেদের এই মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল আগে থেকেই। নির্বাচনের আগে রেলপাড়ের বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোট চলাকালীন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে রেল কর্তৃপক্ষ। নতুন করে নোটিশ জারি করে সময় দেওয়া হয় মাত্র ২৪ ঘণ্টা।
রাতারাতি উচ্ছেদ অভিযান
নির্ধারিত সময়সীমা পার হতেই এলাকায় ঢোকে রেলের বুলডোজার। বাসিন্দাদের অভিযোগ:
মানবিকতার অভাব: সামান্য জিনিসপত্র সরানোর সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি অনেকের ক্ষেত্রে।
আকস্মিকতা: বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আগেই শুরু হয় ভাঙচুর।
হৃদয়বিদারক দৃশ্য: দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার চোখের সামনে ধুলোয় মিশে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাসিন্দারা। অনেক পরিবারকে রাস্তার ধারে আসবাবপত্র নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন- মেদিনীপুরের গর্ব! ICSE-তে ৪৯৮ পেয়ে দেশে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঋতব্রত, ৪ বিষয়ে ১০০-তে ১০০
ক্ষোভের মুখে রেল ও রাজনীতি
উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ক্ষোভের সুর স্পষ্ট—“ভোটের আগে আমাদের তোলা হয়নি কারণ তখন আমাদের প্রয়োজন ছিল। এখন ভোট মিটতেই কোনও মানবিকতা ছাড়া আমাদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হলো।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীরা একে ‘পরিকল্পিত ও অমানবিক’ বলে তোপ দাগলেও, রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুনর্বাসন নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘরহারা পরিবারগুলির একটাই দাবি— মাথার ওপর একটা ছাদ বা উপযুক্ত পুনর্বাসন। এই দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও বড়সড় মানবিক সংকটের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





