ডিজিটাল ডেস্ক নিউজবাজার২৪ঃ পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে নতুন যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে হামাস-এর এক শীর্ষ কমান্ডার ও লস্কর-এ-তৈয়বা-র এক নেতার মুখোমুখি সাক্ষাৎ। ভিডিওটি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা শহরের বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, হামাসের সিনিয়র কমান্ডার নাজি জাহির এবং লস্কর-এ-তৈয়বার কমান্ডার রাশিদ আলি সন্ধু একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগ (PMML)—যাকে লস্কর-এ-তৈয়বার রাজনৈতিক মুখ বলে মনে করা হয়। অনুষ্ঠানে নাজি জাহির ছিলেন প্রধান অতিথি, আর রাশিদ আলি সন্ধু উপস্থিত ছিলেন পিএমএমএল-এর নেতা হিসেবে।
নাজি জাহিরের পাকিস্তান যোগ নতুন নয়। জানা যাচ্ছে, তিনি এর আগেও একাধিকবার পাকিস্তান সফর করেছেন। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সফর করেন বলে দাবি, যা পহেলগাম হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। সেই সময় তিনি লস্কর-এ-তৈয়বা ও জইশ-ই-মহম্মদের কমান্ডারদের সঙ্গে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ভারতবিরোধী সমাবেশে ভাষণ দেন।
মালদহে বিএলও-র মৃত্যু, কাজের চাপের অভিযোগে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর
এরও আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি করাচি সফর করেন এবং করাচি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এপ্রিল ২০২৪-এ তাঁর ইসলামাবাদ সফরের কথাও সামনে আসে। সে সময় ইসলামাবাদ হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এ ইজরায়েলে হামলার ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই, ১৪ অক্টোবর নাজি জাহির পাকিস্তানে পৌঁছান এবং দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের প্রধান মৌলানা ফজল-উর-রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই দিনে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য রাখেন, যেখানে হামাসের আরেক শীর্ষ নেতা খালেদ মাশাল ভিডিও লিঙ্কে যুক্ত ছিলেন।
এরপর ২৯ অক্টোবর ২০২৩-এ তিনি বালুচিস্তানের কোয়েটায় অনুষ্ঠিত ‘আল-আকসা স্টর্ম’ সম্মেলনে অংশ নেন। নভেম্বর মাসে করাচিতে আয়োজিত ‘তুফান-এ-আকসা’ সম্মেলনেও তাঁকে দেখা যায়।
ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারের উপর হামলার ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা অবনতির লক্ষণ নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব
এই ধারাবাহিক সফর ও প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তানের মাটিতে কীভাবে হামাসের নেতারা এত সহজে চলাফেরা করছেন এবং স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ রাখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাগুলি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।





