নিউজ বাজার ২৪ ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং তলানিতে ঠেকে যাওয়া বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে বিধ্বস্ত পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার দেশজুড়ে ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown) ঘোষণা করল শাহবাজ শরিফ সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে রাতারাতি বদলে ফেলা হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। আর এতেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতির ধাক্কা এবার সরাসরি আঘাত হানল পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনে।বৈদেশিক মুদ্রার ভয়াবহ সংকটের জেরে দেশজুড়ে ‘এনার্জি লকডাউন’ ঘোষণা করল শাহবাজ শরিফ সরকার। বিদ্যুৎ বাঁচাতে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাকিস্তান তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির সিংহভাগ আমদানি করে। কিন্তু দেশের কোষাগারে ডলারের অভাব এতটাই প্রকট যে, নতুন করে তেল আমদানির ক্ষমতা হারিয়েছে ইসলামাবাদ। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে।
এনার্জি লকডাউনের কড়া নিয়ম:
বিদ্যুৎ বাঁচাতে পাকিস্তান সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে: ১. তাড়াতাড়ি বাজার বন্ধ: দেশের সব বড় শহরগুলোতে রাত ৮টার মধ্যে শপিং মল ও বাজার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২. বিবাহ অনুষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ: রাত ১০টার পর কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান বা রেস্তোরাঁ খোলা রাখা যাবে না। ৩. সরকারি দপ্তরে সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি (AC) ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্য! বেল্লারিতে ভারতের মেগা কবাডি শিবিরে পবন-নবীনদের দাপট
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি:
পাকিস্তানের করাচি, লাহোর এবং ইসলামাবাদের মতো শহরগুলোতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। শিল্প উৎপাদন থমকে যাওয়ায় কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। জ্বালানির দাম বাড়ায় হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, অনেক জায়গায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (IMF) সাহায্য না পেলে পাকিস্তানের এই অন্ধকার দশা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আপাতত বিদ্যুৎ বাঁচিয়েই পতনের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে প্রতিবেশী দেশ।
IMF-ই কি শেষ ভরসা?
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর আর্থিক সহায়তা ছাড়া এই সংকট কাটানো পাকিস্তানের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই একমাত্র ভরসা— নইলে আরও গভীর অর্থনৈতিক অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে প্রতিবেশী দেশটির।





