পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, এক দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৩০ জনের
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ পাকিস্তানে ফের একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। একই সময়ে করাচিতে একটি বহুতল শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন আরও পাঁচজন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি দেশটির সড়ক নিরাপত্তা, অগ্নি সুরক্ষা এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।
পাঞ্জাবের সারগোধায় ট্রাক দুর্ঘটনা
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধা জেলায় শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যায় সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি। একটি যাত্রীবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১১টার সময় এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। দৃশ্যমানতা কম থাকায় চালক ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারান।
খুশাব শহরের কাছে দরবার পাঞ্জপির মানাওয়ান এলাকায় ট্রাকটি খালে পড়ে যায়। ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন শিশু ও পাঁচজন নারী ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫।
বিআইবিএম-এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. এজাজুল ইসলাম
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, রাত ১১টা ২২ মিনিট নাগাদ জরুরি কল পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহত নয়জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা সবাই শ্রমজীবী মানুষ এবং কাজের সন্ধানেই বান্নু জেলা থেকে খুশাবের দিকে যাচ্ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুরা কেউই প্রাণে বাঁচেননি।
বেলুচিস্তানে বাস উল্টে মৃত্যু
এদিকে বেলুচিস্তান প্রদেশেও বড় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। মাকরান কোস্টাল হাইওয়েতে গওয়াদরের ওরমারা মহকুমার হুদ্দ গথ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যায়। এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জনের বেশি যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটির গতি অনেক বেশি ছিল। পাশাপাশি দীর্ঘ ও নির্জন এই হাইওয়েতে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে। এর আগেও এই রাস্তায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শোকবার্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশ
এই দুই সড়ক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজও শোক প্রকাশ করেছেন।
গ্রামবাসীদের চাপে বেহাল রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ জেলা পরিষদের খুশি গ্রামবাসীরা
করাচিতে বহুতল শপিং মলে আগুন
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যেই করাচিতে ঘটে আরও এক ভয়াবহ ঘটনা। শহরের এম এ জিন্নাহ রোডে ‘গুল প্লাজা’ নামে একটি বহুতল শপিং মলে শনিবার রাতে আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রবিবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রথমে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে মোট পাঁচজনের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আসাদ রেজা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ এবং ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন
পরপর এই দুর্ঘটনাগুলি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের ফিটনেস, অগ্নি সুরক্ষা এবং জরুরি উদ্ধার পরিষেবার দুর্বলতা বারবার প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনের নির্দেশের পাশাপাশি এবার বাস্তবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।





