আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দু’ধরনের ক্রুড অয়েলের দামই সাম্প্রতিক লেনদেনে বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদন ও রফতানিকারক অঞ্চল। ফলে ওই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। বাজারে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘাটতির কথা মাথায় রেখেই ব্যবসায়ীরা আগাম দাম বাড়িয়ে দেন, যার প্রভাব পড়ে ফিউচার্স মার্কেটেও।
আরও পড়ুন-সিনেমার পর এবার রাজনীতি? কোয়েল মল্লিকের সম্ভাব্য রাজ্যসভা মনোনয়ন ঘিরে তুমুল জল্পনা
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল রফতানি এই জলপথের উপর নির্ভরশীল। যদি এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, তবে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে।
তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানি-নির্ভর দেশগুলিতে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের জ্বালানি খরচে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও খুচরো পর্যায়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণে কেন্দ্র ও রাজ্যের কর কাঠামো এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মূল্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে পরিবহণ খরচ বাড়ে, যা পরোক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিষেবা, লজিস্টিকস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রেও ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর—উৎপাদনকারী দেশগুলির সিদ্ধান্ত, ওপেক প্লাস জোটের নীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের পরিমাণ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং চাহিদার গতিপ্রকৃতি। যদি কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সরবরাহে স্থিতি ফিরে আসে, তবে দাম কিছুটা স্থির হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকেও ঝুঁকছেন, যার প্রভাব পড়ছে সোনার বাজারেও। অর্থাৎ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, আর্থিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপর এখন নজর গোটা বিশ্বের। সংঘাতের তীব্রতা ও স্থায়িত্বই ঠিক করবে আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের।