অমরা যাকে গালি দেওয়া বলি, তা অভিধানের ভাষায় অপশব্দ। এই অপশব্দ ব্যবহার হয় না এমন জায়গা খুবই বিরল। কোনো কারণে মানুষ রেগে গেল মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ৪/৫/৬ অক্ষরের অজস্র অপশব্দ। অনেকের আবার তা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। কিন্তু সকলেই সেই অসভ্য শব্দ ব্যবহারের পক্ষে নয়। এমনই নিদর্শন তৈরী করেছে মহারাষ্ট্রের এক গ্রাম। মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম সোন্ডালে। এই গ্রামের মানুষ শপথ নিয়েছেন যা কিছু হয়ে যাক, যেমন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, কখনও মুখ থেকে খারাপ শব্দ ব্যবহার করবেন না তাঁরা। এবং এই প্রতিশ্রুতি যাতে পালিত হয় তার জন্য নিজেরাই নিজেদের শাস্তি ঠিক করে নিয়েছেন। যদি কেউ এই প্রতিশ্রুতি ভাঙেন, সেক্ষেত্রে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রামের প্রধান শরদ আরগড়ে বলেন, “অহল্যানগর জেলার নেবাসা তহসিলে অবস্থিত আমাদের এই গ্রাম সোন্ডালা। আমরা আমাদের গ্রামের মহিলাদের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার্থে পঞ্চায়েতে এই প্রস্তাব পেশ করি।” প্রচুর আলোচনার পরে সকলেই মেনে নেয় সেই প্রস্তাব। তারপর থেকে কিছু জরিমানা জমা পড়লেও খারাপ কথা বলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এখানেই শেষ নয়, ওই গ্রামে সমবেতভাবে বেশ কিছু ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘আমাদের এই গ্রাম আখ চাষের উপর নির্ভরশীল। তবে গ্রামের অন্যতম সমস্যা ছিল এই গালিগালাজ। কারও সঙ্গে ঝগড়া হলে মা-বোনকে উদ্দেশ করে ঘৃণ্য গালি দেওয়া হত।’ কিন্তু পরে আমরা গ্রামের মহিলাদের যোগ্য সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নি। তাছাড়াও গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক কুপ্রথা বন্ধ করেছেন। যেমন সোন্ডালে গ্রামে বিধবারা সমস্ত রকম শুভ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। গ্রামের প্রধান বলেন, “গ্রামের বিধবারা সাবলীলভাবে সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একের পর এক ভালো উদ্যোগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পুরস্কারও জিতে নিয়েছে গ্রামটি।”





