উত্তর হাওড়ায় হিন্দিভাষী ভোটারদের গুরুত্ব
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক , হাওড়া: গঙ্গার ওপারের ব্যস্ত শহর হাওড়া এখন আক্ষরিক অর্থেই নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে। বিশেষ করে হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি এবার কার্যত ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এ পরিণত হয়েছে। এই কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার জনবিন্যাস। পরিসংখ্যন বলছে, এই বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটারই হিন্দিভাষী। আর এই বিশাল সংখ্যক জনতা যেদিকে ঝুঁকবেন, জয়ের চাবিকাঠি থাকবে তাঁদের হাতেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।
প্রার্থী তালিকায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের মেজাজ
২০২৬-এর এই নির্বাচনে হাওড়া উত্তর কেন্দ্রে হেভিওয়েট লড়াইয়ের সব রসদ মজুত। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নিজের জমি রক্ষা করতে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের হয়ে পদ্ম ফোটানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন উমেশ রাই। বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে সিপিএম প্রার্থী গৌতম রায় লড়াইকে ত্রিমুখী করার চেষ্টায় রয়েছেন। তবে মূল লড়াই যে ঘাসফুল বনাম পদ্মফুলের, তা সাধারণ মানুষের আলোচনাতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুন-বঙ্গে মুখ নেই বিজেপির! ২০২৬ ভোটে ‘CM ফেস’ ইস্যুতে কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?
তৃণমূলের ট্রাম্প কার্ড মঞ্জিৎ রাফেল
বড় জনসভার চেয়েও এবার ছোট ছোট বৈঠক এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ বা ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে তৃণমূল শিবির। আর এই কৌশলের অগ্রভাগে রয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর মঞ্জিৎ রাফেল। বিশেষ করে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে তাঁকে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে। হিন্দিভাষী ভোটারদের মন জয়ে মঞ্জিৎ রাফেলই এখন তৃণমূলের প্রধান মুখ।
মঞ্জিৎ রাফেল কেবল ভোট চাইছেন না, বরং রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোর সুবিধা হিন্দিভাষী মানুষেরা কতটা পাচ্ছেন, তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেছেন। হাওড়া উত্তরের মানুষ উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতেই জোড়া ফুলে ভোট দেবেন।”
ভোট কাটাকুটির অঙ্ক ও এসআইআর বিতর্ক
এই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩.৫৫ লক্ষ। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। প্রায় ৫.৯৫ লক্ষ নাম সংশোধনের তালিকায় থাকায় দুই শিবিরই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাইয়ের দাবি, মানুষ এই সরকারের অপশাসনে তিতিবিরক্ত এবং এবার হিন্দিভাষী ভোটাররা কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন।
কেন হাওড়া উত্তর এত গুরুত্বপূর্ণ?
কলকারখানা এবং ছোট শিল্প অধ্যুষিত হাওড়া উত্তরে উত্তর ভারত থেকে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে এখানকার রাজনৈতিক মেজাজ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে কিছুটা আলাদা। হিন্দিভাষী ভোটারদের আবেগ এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান— এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের জয়-পরাজয়। একদিকে তৃণমূলের ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজ, আর অন্যদিকে বিজেপি-র ‘পরিবর্তন’ স্লোগান— দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় হাওড়াবাসী।
কী বলছেন স্থানীয়রা?
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তব কাজ দেখেই তাঁরা ভোট দেবেন। আবার কেউ কেউ উন্নয়ন ও রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
অর্থাৎ, আবেগ নয়—বাস্তব ইস্যুই এখানে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্র এখন একেবারে হাই ভোল্টেজ নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ। হিন্দিভাষী ভোটারদের সমর্থন যেদিকে যাবে, ফলও সেদিকেই ঝুঁকবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত কার প্রচার কৌশল কাজে দেয়।





