নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ নোয়াডার সেক্টর-১৫০ টি-পয়েন্টের কাছে একটি নির্মাণাধীন বেসমেন্টে জমে থাকা জলে গাড়িসহ ডুবে ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। এই ঘটনায় Knowledge Park Police Station–এর পুলিশ রবিবার দুই নির্মাণ সংস্থা—MJ Wishtown এবং Lotus Green–এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে Noida Authority–এর সিইও ড. লোকেশ এম. নোয়াডা ট্রাফিক সেল (এনটিসি)-এর এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সেক্টর-১৫০ এলাকায় কর্মরত এনটিসির অন্যান্য আধিকারিকদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিল্ডারদের নির্মাণকাজ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নোয়াডা কর্তৃপক্ষের সিইও স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সমস্ত দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের আওতাধীন নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলির অবিলম্বে পরিদর্শন করতে হবে এবং যথাযথ ব্যারিকেডিং, আলো, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ঐতিহাসিক মালদা: দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
“দু’ঘণ্টা ধরে লড়াই করেছিল ছেলে”
মৃত যুবরাজ মেহতার বাবা রাজকুমার মেহতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ঠান্ডা জলের মধ্যে নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সময়মতো সাহায্য না পৌঁছনোর কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।
এক সংবাদসংস্থাকে রাজকুমার মেহতা বলেন, “আমার ছেলে জলে ডুবে যাওয়ার সময় অনেকে তাকে উদ্ধার না করে ভিডিও করছিল। সেখানে উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মচারীদের কাছে কোনও ডুবুরি পর্যন্ত ছিল না।” তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনায় প্রশাসনের চরম অবহেলা রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে তিনি কড়া ব্যবস্থা ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
নির্মাণাধীন মলের বেসমেন্টে জমেছিল জল
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিল্ডারদের নির্মাণস্থলে একটি মলের বেসমেন্টের কাজ চলছিল, যেখানে বিপুল পরিমাণ জল জমে ছিল। টাটা ইউরেকা পার্ক সোসাইটির বাসিন্দা রাজকুমার মেহতার অভিযোগের ভিত্তিতে বিল্ডার সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে গাফিলতির কারণে মৃত্যু, অনিচ্ছাকৃত হত্যার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যুবরাজের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে তীব্র শীতের মধ্যে বরফঠান্ডা জলে ভিজে থাকার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ আতঙ্ক ও ঠান্ডার ধাক্কায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা।
আপনার এলাকায় আধার সংশোধন সেন্টার খুলবেন কীভাবে? জানুন আবেদন করার সম্পূর্ণ নিয়ম
ঘটনার পরেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলের সামনে মাটি ফেলে, লোহার ব্যারিকেড ও জার্সি ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুরো বেসমেন্ট ঘিরে এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি—শুধু ঘটনাস্থলের সামনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে ব্যবস্থা।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ভিড় জমে ছিল। অনেকেই বলছেন, সময়মতো দায়িত্বশীল বিভাগগুলি ব্যবস্থা নিলে যুবরাজের প্রাণ বাঁচানো যেত।





