এনজেপি-হরিদ্বার সরাসরি রেল সংযোগের পরিকল্পনা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশন থেকে উত্তরাখণ্ডের পবিত্র শহর হরিদ্বার পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের তোড়জোড় শুরু করেছে ভারতীয় রেল। একইসাথে রেলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ‘বন্দে ভারত স্লিপার মিশন’-এর আওতায় এই দীর্ঘ রুটটি আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় খুশির হাওয়া পর্যটন ও তীর্থযাত্রী মহলে।
সরাসরি ট্রেনের দীর্ঘদিনের দাবি
বর্তমানে উত্তরবঙ্গ থেকে হরিদ্বার বা ঋষিকেশ যাওয়ার জন্য সরাসরি ট্রেনের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। হাতেগোনা যে দু-একটি ট্রেন আছে, সেগুলিতে টিকিটের আকাশছোঁয়া চাহিদা থাকে। ফলে অধিকাংশ যাত্রীকে দিল্লি বা লখনউ গিয়ে ট্রেন বদলাতে হয়, যা বয়স্ক তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এনজেপি থেকে সরাসরি হরিদ্বার পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বন্দে ভারত স্লিপার: রেলের নতুন চমক
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সাফল্যের পর এবার ভারতীয় রেলের নজর স্লিপার ভার্সনের ওপর। বর্তমানে চলা বন্দে ভারত ট্রেনগুলি মূলত চেয়ার কার, যা স্বল্প দূরত্বের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু এনজেপি থেকে হরিদ্বারের মতো দীর্ঘ যাত্রার (প্রায় ১৩০০-১৪০০ কিমি) জন্য স্লিপার কোচ অপরিহার্য।
গতি ও সময়: সাধারণ এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় বন্দে ভারত স্লিপার অনেক বেশি গতিতে চলবে, ফলে যাত্রার সময় প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা কমে আসতে পারে।
অত্যাধুনিক সুবিধা: সেন্সর ভিত্তিক দরজা, বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট, উন্নত মানের এসি এবং শব্দহীন কোচের সুবিধা থাকবে এই ট্রেনে।
নিরাপত্তা: এতে থাকবে ‘কবচ’ (Kavach) প্রযুক্তি, যা ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
এনজেপি থেকে হরিদ্বার সরাসরি ট্রেন চালু হলে তার প্রভাব পড়বে সুদূরপ্রসারী: ১. ধর্মীয় পর্যটন: উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন সিকিম, ভুটান ও নেপালের তীর্থযাত্রীদের জন্য চারধাম যাত্রা (গঙ্গোত্রী, যমুনাদ্রি, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ) অনেক সহজ হবে। ২. পাহাড়ি পর্যটন: যেমন উত্তরবঙ্গের মানুষ উত্তরাখণ্ডে বেড়াতে যাবেন, তেমনই উত্তর ভারতের পর্যটকদের কাছে ডুয়ার্স ও দার্জিলিং ভ্রমণ আরও সহজলভ্য হবে। ৩. ব্যবসায়িক উন্নতি: দুই রাজ্যের মধ্যে পণ্য আদানপ্রদান ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?
রেল আধিকারিকদের মতে, বন্দে ভারত স্লিপার কোচের ট্রায়াল রান এবং উৎপাদন দ্রুতগতিতে চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই এই মিশন পূর্ণতা পাওয়ার কথা। এনজেপি যেহেতু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার, তাই এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে বন্দে ভারত স্লিপার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রেল বোর্ড।





