নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ রাজ্যে ফের আতঙ্কের আবহ তৈরি করছে নিপা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই রাজ্যে দু’জন নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। আক্রান্ত দু’জনেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিপা মোকাবিলায় বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, নিপা সংক্রমণের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল-এ বিশেষ জরুরি ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। এই হাসপাতালে সংক্রামক রোগ চিকিৎসার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় নিপা মোকাবিলায় এটিকেই নোডাল সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার জানান,মঙ্গলবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে অধ্যক্ষ, সুপার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নিপা মোকাবিলায় হাসপাতালের একটি আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব রকম সুবিধা থাকছে এখানে । এই ওয়ার্ডে থাকছে—
১০টি এমার্জেন্সি শয্যা
সিসিইউ-এর জন্য ২টি বিশেষ শয্যা
৬৮টি সাধারণ শয্যা
স্বপন সমাদ্দার আরও বলেন,করোনা মোকাবিলার সময় চিকিৎসকদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই নিপা ভাইরাস মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
আরও পড়ুন-প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ
সন্দেহ হলেই বেলেঘাটা রেফারের নির্দেশ
কলকাতার একটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অমিত কুমার দাঁ জানিয়েছেন, নিপা সংক্রমণের সামান্য সন্দেহ হলেই রোগীকে দ্রুত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রুত আইসোলেশন ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা ।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিপা সন্দেহে চিকিৎসাধীন দু’জন নার্স
এদিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ নিপা সন্দেহে দু’জন নার্সের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মৌসুমি ব্যানার্জি জানিয়েছেন, আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার রিপোর্টের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কাটোয়ায় নার্সের বাড়ি সিল, এলাকা জীবাণুমুক্ত
নিপা সংক্রমণের আশঙ্কা সামনে আসতেই পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া এলাকায় এক নার্সের বাড়ি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বাড়ির ভিতরে ও বাইরে যাতে কেউ যাতায়াত না করতে পারেন, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে ওই বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়। মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।
৪৮ জন কোয়ারেন্টিনে, চলছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে দ্রুত কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করা হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. জয়রাম হেমব্রম জানিয়েছেন, রোগীর সংস্পর্শে আসা মোট ৪৮ জনকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।আক্রান্ত নার্সের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর কিছুটা ভয় কাজ করছে তাঁদের মধ্যে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের সতর্কবার্তা
স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে
অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে
সন্দেহভাজন উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
রাজ্য জুড়ে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।





