কেন পালন করা হয় নীলষষ্ঠীর ব্রত?
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , কলকাতা: বাঙালির সংস্কৃতিতে চৈত্র মাস মানেই একের পর এক আচার-অনুষ্ঠানের সমাহার। বছরের শেষ প্রান্তে এসে এই মাস যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্রত হল নীলষষ্ঠী বা নীলপুজো। এই দিনে মায়েরা কঠোর নির্জলা উপোস থেকে সন্তানের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করেন। আবেগ, বিশ্বাস ও আচার—এই তিনের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই ব্রত আজও বাঙালির ঘরে ঘরে সমানভাবে পালিত হয়।
২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী পড়েছে ১৩ এপ্রিল, সোমবার (২৯ চৈত্র)। সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন, অর্থাৎ চড়ক উৎসবের ঠিক আগে এই ব্রত পালিত হয়। যদিও সারা দিনই ব্রত পালনের নিয়ম থাকে, তবে সন্ধ্যার সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই শিবের উদ্দেশে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করা হয়।
নীল ষষ্ঠীর পৌরাণিক ও লৌকিক কাহিনী
নীল ষষ্ঠী পালনের পেছনে একাধিক জনপ্রিয় কাহিনী প্রচলিত রয়েছে:
শিব-নীলাবতীর পরিণয়: লোককথা অনুযায়ী, দক্ষযজ্ঞে সতী দেহত্যাগ করার পর নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। রাজা তাঁকে কন্যার মতো বড় করে তোলেন এবং মহাদেবের সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু বাসর ঘরেই নীলাবতীর মৃত্যু হলে শোকাতুর রাজা-রাণীও প্রাণ বিসর্জন দেন। মনে করা হয়, শিব ও নীলাবতীর এই স্মৃতিতেই নীল পুজোর প্রচলন।
মা ষষ্ঠীর নির্দেশ ও বিপ্র দম্পতি: অন্য একটি কাহিনীতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ও তাঁর সন্তানদের অকাল মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে কাশীর ঘাটে কাঁদছিলেন। তখন মা ষষ্ঠী বৃদ্ধার বেশে এসে তাঁদের চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন উপবাস করে শিবের মাথায় বাতি দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই থেকেই মায়েরা নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করে আসছেন।
নীলষষ্ঠী ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী পড়েছে ১৩ এপ্রিল, সোমবার (২৯ চৈত্র)।
সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিনই এই ব্রত পালিত হয়।
এই ব্রতের মূল সময় হল সন্ধ্যা। তখনই শিবের পূজা করা হয়।
পুজোর উপাচার:
সারাদিন নির্জলা উপবাস শেষে শিবলিঙ্গে গঙ্গার জল, দুধ, মধু ও ঘি দিয়ে স্নান করাতে হয়।
বেলপাতা, আকন্দ বা অপরাজিতা ফুলের মালা মহাদেবকে অর্পণ করা হয়।
সন্তানের নামে মন্দিরে বা বাড়ির শিব ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
কেন পালন করা হয় এই ব্রত?
নীলষষ্ঠী নিয়ে একাধিক বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। একটি মতে, শিব ও নীলাবতীর কাহিনী থেকে এই পুজোর শুরু।
অন্য একটি কাহিনীতে মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে সন্তানের আয়ু বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এই কারণেই মায়েরা সন্তানের দীর্ঘায়ু কামনায় এই ব্রত পালন করেন।
আরও পড়ুন-পুজোর সময় এই ছোট ভুলেই নষ্ট হয় পুজোর ফল, জানাচ্ছে বাস্তু শাস্ত্র
ব্রত পালনের নিয়ম কী?
এই দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মানা হয়—
- সারাদিন নির্জলা উপোস থাকতে হয়
- সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গে জল, দুধ ও ঘি দেওয়া হয়
- বেলপাতা, আকন্দ বা অপরাজিতা ফুল অর্পণ করা হয়
- সন্তানের নামে প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়
কী খাওয়া যায়?
উপোস ভাঙার পরও কিছু নিয়ম মানতে হয়—
- চালের খাবার খাওয়া যায় না
- ফল, সাবু, লুচি বা পরোটা খাওয়া যায়
- সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়
শেষ কথা
নীলষষ্ঠী শুধু একটি ব্রত নয়। এটি মায়ের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সন্তানের জন্য প্রার্থনার প্রতীক। আজও বাঙালির ঘরে ঘরে এই ব্রত একই ভক্তি ও আবেগে পালন করা হয়।





