নীলষষ্ঠী ২০২৬ কবে পড়েছে
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি লৌকিক উৎসব হলো ‘নীলপুজো’ বা ‘নীলষষ্ঠী’। মূলত সন্তানের দীর্ঘায়ু এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মায়েরা এদিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের আরাধনা করেন। ২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী কবে পড়েছে এবং এই ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম কী, তা নিয়ে পাঠকদের জন্য রইল বিস্তারিত তথ্য।
নীলষষ্ঠী ২০২৬: তারিখ ও সময়
পঞ্জিকা মতে, চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন অর্থাৎ চড়ক উৎসবের পূর্ববর্তী দিনে নীলপুজো পালিত হয়। ২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী পড়েছে ১৩ এপ্রিল (২৯ চৈত্র)।
এই পুজোর জন্য আলাদা কোনো ধরাবাঁধা মাহেন্দ্রক্ষণ না থাকলেও, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সারাদিন উপবাস থেকে সূর্যাস্তের পর অর্থাৎ সন্ধে নাগাদ শিবলিঙ্গে জল ঢেলে ব্রত উদযাপন করা সবচেয়ে প্রশস্ত।
ব্রত পালনের নিয়মাবলি
নীলষষ্ঠীর দিন মহিলারা সারাদিন অন্ন গ্রহণ করেন না। উপবাস পালনের মূল নিয়মগুলো হলো: ১. গঙ্গা বা পবিত্র জলাশয়ে স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্রে শিবের আরাধনা করা। ২. শিবলিঙ্গে দুধ, গঙ্গাজল, বেলপাতা এবং আকন্দ বা অপরাজিতা ফুলের মালা দিয়ে পুজো দেওয়া। ৩. সন্ধের সময় শিবের থানে বা মন্দিরে সন্তানের নামে মোমবাতি বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো। ৪. শিবের মাথায় ফল ছুঁইয়ে প্রার্থনা করা। ৫. উপবাস ভাঙার পর ফল, সাবু বা ময়দার তৈরি খাবার (লুচি) খাওয়া যায়। তবে এদিন ভাত বা সাধারণ লবণ (সৈন্ধব লবণ ছাড়া) বর্জনীয়।
কেন মায়েরা এই উপবাস করেন? (পৌরাণিক কাহিনি)
নীলষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অতি প্রাচীন লোককথা। কথিত আছে, এক বামুন ও বামুনীর অনেক সন্তান হলেও তারা কেউই দীর্ঘজীবী হতো না। শোকে মুহ্যমান দম্পতি যখন কাশীর গঙ্গাঘাটে বসে কাঁদছিলেন, তখন মা ষষ্ঠী এক বৃদ্ধা বামুনীর বেশ ধরে তাঁদের কাছে আসেন। তিনি তাঁদের পরামর্শ দেন চৈত্র মাসে শিবের উপাসনা করতে এবং সংক্রান্তির আগের দিন নীলষষ্ঠীর ব্রত পালন করতে।
মা ষষ্ঠীর কথা মতো নিষ্ঠাভরে নীলকণ্ঠ মহাদেব ও নীলাবতীর পুজো করার পর ওই দম্পতির সন্তানরা সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হয়। সেই থেকেই বিশ্বাস প্রচলিত যে, নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করলে সন্তানের ওপর কোনো অমঙ্গল ছায়া পড়ে না।
আরেকটি মত অনুযায়ী, মহাদেব ও নীলাবতীর বিবাহের স্মারক হিসেবেই চৈত্র মাসের এই তিথিতে নীলপুজো উদযাপিত হয়। বর্তমানে এটি বাঙালির ঘরের এক অবিচ্ছেদ্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ব্রতের বিশেষ গুরুত্ব
নীল ষষ্ঠী শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মায়ের ভালোবাসা ও সন্তানের প্রতি আশীর্বাদের প্রতীক। পরিবারের শান্তি ও সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য এই ব্রতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।





