নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ আবারও আতঙ্কে কেঁপে উঠল নাইজেরিয়া। দেশের উত্তর-পশ্চিমের জামফারা প্রদেশে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা এই নারকীয় তাণ্ডবে একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, আর আতঙ্কের মাঝেই বহু শিশু ও মহিলাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters এই তথ্য জানিয়েছে।
বিকেল থেকে ভোর—রাতভর মৃত্যুর ছায়া
জামফারার বুক্কুইউম অঞ্চলের স্থানীয় প্রতিনিধি হামিসা এ. ফারুর কথায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ টুনগান দুতসে গ্রামে প্রথম হামলা শুরু হয়। মোটরবাইকে চেপে আসা দুষ্কৃতীরা হঠাৎ করেই গ্রামে ঢুকে পড়ে। আতঙ্কে মানুষ যখন দিশেহারা, তখনই শুরু হয় গুলির শব্দ। ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পালাতে না পারা অনেকেই সেখানেই প্রাণ হারান। শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এই তাণ্ডব চলে।
শুধু একটি গ্রাম নয়—জামফারা স্টেটের একাধিক এলাকায় একইভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আরও পড়ুন-আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন, ‘প্রহসন’ বলে ভোট বয়কটের ডাক সজীব ওয়াজেদ জয়ের
“আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম…”
৪১ বছর বয়সী আবদুল্লা সানি, যিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, কাঁপা গলায় জানান—কয়েক দিন আগেই প্রায় ১৫০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে মোটরবাইকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“আমরা ভেবেছিলাম নিরাপত্তা বাড়বে। কিন্তু কেউ আসেনি। তারপর এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল,”—বলছেন তিনি।
এই অভিযোগ ঘিরেই এখন প্রশ্নের মুখে স্থানীয় প্রশাসন। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে কি এত প্রাণহানি এড়ানো যেত? উত্তর খুঁজছে দেশ।
অপহরণ আতঙ্ক, ঘরে ফিরছে না অনেকেই
হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক—বহু শিশু ও মহিলাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারগুলো জানেই না তাদের প্রিয়জনরা কোথায়, কেমন আছে। কেউ কেউ পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে বসে ছাইয়ের স্তূপে খুঁজছেন স্বজনের চিহ্ন। কারও চোখে জল নেই—শুধু শূন্যতা।
গত নভেম্বরে স্কুল থেকে গণ-অপহরণের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই আবারও এমন হামলা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ‘ব্যান্ডিট’ বা সশস্ত্র দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য চলছে। গ্রাম দখল, মুক্তিপণ আদায়, অপহরণ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত।
নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নতুন করে। স্থানীয়দের দাবি—শুধু সেনা মোতায়েন নয়, প্রয়োজন স্থায়ী নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি।
কিন্তু এসব বিশ্লেষণের বাইরে, জামফারার মানুষের কাছে এই রাত কেবল সংখ্যার হিসাব নয়—এটা ভেঙে যাওয়া সংসার, ছিন্নমূল শিশু, আর ধোঁয়া ওঠা স্মৃতির গল্প।
ভোরের আলো উঠলেও তাদের জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘ অন্ধকার।
এখন সবার একটাই অপেক্ষা—অপহৃতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং এই রক্তচক্রের অবসান।





