বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগ নিয়ে প্রশ্ন
নিউজ বাজার২৪, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশ নেপালের রাজনীতিতে বিশাল বড় এক ধামাকা হয়ে গেল। অর্থ পাচার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর (বালেন শাহ) দপ্তরে গিয়ে তিনি নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। নেপালের বর্তমান জোট সরকারের জন্য একে বড় একটি ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কেন এই পদত্যাগ? অভিযোগের শিকড় কতদূর?
বেশ কিছুদিন ধরেই নেপালের রাজনৈতিক মহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন একটি তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ‘স্টার মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘লিবার্টি মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স’ নামক দুটি বিমা কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই দুটি কোম্পানির প্রধান মাথা হলেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাট। দীপক ভাট বর্তমানে বড়সড় অর্থ পাচার (Money Laundering) মামলায় নেপাল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে যে, যে ব্যক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একজন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আর্থিক তছরুপ করেছেন, সেই ব্যক্তি যদি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন, তবে পুলিশ কোনোভাবেই নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে না। এই তীব্র চাপের মুখে এবং জোট সরকারের ভাবমূর্তি বাঁচাতে সুধন গুরুং সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন- শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিল গুজরাত টাইটান্স, হতাশ দিল্লি ক্যাপিটালস
সুধন গুরুংয়ের আত্মপক্ষ সমর্থন
ইস্তফা দেওয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুধন গুরুং বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। এই শেয়ারগুলি আমি মন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে নিজের পরিশ্রমের টাকায় কিনেছিলাম। আমার ব্যক্তিগত সম্পদ বিবরণীতেও এর উল্লেখ ছিল। কিন্তু যেহেতু আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে এই জায়গায় এসেছি, তাই আমি চাই না আমার পদের কারণে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়ুক। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি পদ থেকে দূরে থাকব।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করার জন্য এটি একটি গভীর চক্রান্ত।
কে এই সুধন গুরুং?
নেপালের রাজনীতিতে সুধন গুরুং ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। গোর্খা এলাকা থেকে নির্বাচিত এই তরুণ নেতা নেপালের জনপ্রিয় ‘জেন-জি’ (Gen-Z) আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি মানুষের মন জয় করেছিলেন। গত ৫ মার্চ বালেন শাহ-এর সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। কিন্তু ক্ষমতার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর নামে এমন অভিযোগ ওঠায় হতাশ তাঁর অনুগামীরা।
বর্তমান পরিস্থিতি
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, তিনি সুধন গুরুংয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আপাতত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতেই রেখেছেন। তবে এই ঘটনার জেরে নেপালের বর্তমান শাসক জোটের মধ্যে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



