বড়দিনের রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কর্নাটক।এই রাজ্যের ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি বেসরকারি এসি বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কমপক্ষে ২০ জনকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঘটনাটি ঘটে কর্নাটকের চিত্রদুর্গ জেলার মধ্যে, বুধবার গভীর রাতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় দুটো নাগাদ একটি ট্রাক ডিভাইডার টপকে ভুল লেনে চলে আসে। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি এসি বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার পরই বাসে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, ‘সি বার্ড’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার ওই বাসটি বেঙ্গালুরু থেকে শিবমোগার দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসে মোট ৩২ জন যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর বাসের ভিতরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু যাত্রী বাসের ভিতরেই আটকে পড়েন।
চোখের পাতায় হলুদ গাঁট দেখলে সাবধান ! হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। দগ্ধ অবস্থায় ২০ জনের বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেকের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আহত যাত্রী আদিত্য জানান, “হঠাৎ খুব জোরে ধাক্কা লাগে। সবাই চিৎকার করতে শুরু করে। আমি পড়ে যাই, উঠে দেখি চারদিকে আগুন। বাসের দরজা খুলছিল না। আমরা কয়েকজন জানালা ভেঙে কোনও রকমে বেরোতে পারি। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল যে অনেককে বাঁচানো যায়নি।”
খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের
কী কারণে সংঘর্ষের পর এত দ্রুত বাসে আগুন ধরে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, জ্বালানি লিক নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত নভেম্বর মাসে তেলঙ্গানায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ২০ জন যাত্রী। বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফের একবার দীর্ঘপথের বাসযাত্রায় নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।





