আকারে ছোট হচ্ছে মালদার ঐতিহ্যবাহী নবাবগঞ্জের বেগুন, সংকটে কৃষক—তবু আশার আলো GI ট্যাগে

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ  একসময় দুই কেজি ওজনের বিশাল বেগুন দেখলে চোখ কপালে উঠত। মালদার নবাবগঞ্জের সেই বিখ্যাত বেগুন আজ ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার জৌলুস। আকার ছোট হচ্ছে, ফলন কমছে। ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে পুরোনো পদ্ধতিতেই চাষ চালিয়ে যাওয়ার ফলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে—এমনটাই দাবি কৃষকদের। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরও মানছে, বছরের পর বছর একই পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় বীজের গুণমান কমেছে, বেড়েছে ভাইরাস ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ।

এই বেগুনের বিশেষত্ব এখানেই—এর বীজ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। কৃষকরাই বছরের পর বছর নিজেদের উৎপাদিত বেগুন থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করেন। একসময় যেখানে একটি বেগুনের ওজন অনায়াসে দেড় থেকে দুই কেজি হতো, সেখানে এখন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজির বেশি হচ্ছে না। শুধু আকার নয়, ফলনও কমেছে। আগে বিঘা প্রতি যেখানে চার থেকে পাঁচ কুইন্টাল বেগুন পাওয়া যেত, এখন সেখানে গড়ে ২ কুইন্টালেই ঠেকছে উৎপাদন। এক সময় এই বেগুন অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদারও লোক দিয়ে নবাব গঞ্জে জমি লিজ নিয়ে চাষ করাতেন । ফলেনর সময় গাড়ি ভর্তি করে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে প্রিয়জনদের উপহার দিতেন। বেগুনের আকার ছোট হবার পর থেকে তিনি আগ্রহ হারাতে থাকেন।

আরও পড়ুন- ৫১৯ বছরের ঐতিহ্য! পয়লা মাঘে কেষ্টপুরের মাছের মেলায় রাঘব বোয়াল থেকে ইলিশের ভিড়

মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তর-এর আধিকারিক সামন্ত লায়েক জানান, নবাবগঞ্জের বেগুনের সুনাম রাজ্য ছাড়িয়ে অন্যত্রও রয়েছে। কিন্তু পুরোনো পদ্ধতিতে চাষ, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং ভাইরাসজনিত সমস্যায় ফলন কমছে। তাঁদের লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং উচ্চফলনশীল জাত তৈরি করা, যাতে কৃষকেরা উপকৃত হন।

সবচেয়ে বেশি এই বেগুনের চাষ হয় মালদা জেলার রতুয়া ব্লকের রাজাপুর এলাকায়। এছাড়া পুরাতন মালদার মহিষবাথান, গাজোল ব্লকের পাণ্ডুয়া-সহ আশপাশের কিছু অঞ্চলেও এখনও এই বেগুন চাষ হয়। কিন্তু চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি, লাভ কম—এই অভিযোগে অনেক কৃষক ইতিমধ্যেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কৃষক লাল মহম্মদের কথায়, “বাবা-ঠাকুরদার সময় থেকে যেভাবে চাষ হয়ে আসছে, এখনও সেভাবেই করছি। কিন্তু ফলন কমে যাওয়ায় অনেকেই আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।”

তবে ছবিটা পুরোপুরি অন্ধকার নয়। এই ঐতিহ্যবাহী বেগুনকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তাদের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জের বেগুনের জন্য GI ট্যাগের আবেদন করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “এই বেগুন মালদার পরিচয়। GI ট্যাগ পেলে সরকারি সহায়তা বাড়বে, চাষে নতুন প্রযুক্তি আসবে, উপকৃত হবেন কৃষকরা।”

আরও পড়ুন-মালদা থেকে একের পর এক ট্রেন সরানোয় ক্ষোভ, রেলমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ব্যবসায়ী সংগঠনের

আজ কৃষকদের অভিযোগ—মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, প্রশাসনিক সহযোগিতা নেই বললেই চলে। কিন্তু একইসঙ্গে আশাও আছে, যদি GI ট্যাগ মেলে এবং সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো আবার ফিরবে সেই দুই কেজির নবাবগঞ্জের বেগুন। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনেই লুকিয়ে আছে এই বেগুনের ভবিষ্যৎ।

সপ্তাহের সেরা

ভারতে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট! কীভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি থেকে সুবিধা—জানুন এক নজরে সবকিছু

ই-পাসপোর্টে কী কী সুবিধা পাবেন সাধারণ নাগরিকরা নিউজবাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক:...

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৫০ রানও আর নিরাপদ নয়! আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের পুরনো দর্শন

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে ব্যাটিংয়ের ধরন? নিউজ...

গাজোলে পুকুর খুঁড়তেই উঠল প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি, বালুরঘাটে রহস্যময় সিঁড়ি! দোলপূর্ণিমায় দুই জেলায় হুলুস্থুল

গাজোলে পুকুর সংস্কারে উঠে এল প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি: পূজার্চনায় মাতলেন...

Topics

ভারতে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট! কীভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি থেকে সুবিধা—জানুন এক নজরে সবকিছু

ই-পাসপোর্টে কী কী সুবিধা পাবেন সাধারণ নাগরিকরা নিউজবাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক:...
spot_img

Related Articles

Popular Categories

spot_imgspot_img